কলারোয়ারাজনীতিলিডসাতক্ষীরা জেলা

কলারোয়ায় দোকান দখল: ২ নারীকে মারপিট ও ৮০ লাখ টাকার মালামাল লুটের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরার কলারোয়ায় দোকান দখলকে কেন্দ্র করে নারী নির্যাতন, হামলা, ভাঙচুর ও বিপুল পরিমাণ মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে। পরপর দুটি ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কলারোয়া থানায় পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীরা।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মুরারীকাটি গ্রামের বাসিন্দা সাবিকুন নাহারের পরিবারের সঙ্গে একই এলাকার শেখ শরিফুজ্জামান তুহিনের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে গত ১৬ মে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তুহিনের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল কলারোয়া বাজারের বলফিল্ড সংলগ্ন মুস্তাকিম বিল্লাহ ও মোস্তাইন বিল্লাহর নিজস্ব জমিতে নির্মিত দুটি দোকানে হামলা চালায়।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হামলাকারীরা দোকানের ভাড়াটিয়াকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে দেয় এবং দোকানে থাকা ফার্নিচার তৈরির বিভিন্ন মালামাল, মেশিন ও যন্ত্রাংশ রাস্তায় ছুড়ে ফেলে দেয়। পরে দোকানে তালা ঝুলিয়ে জোরপূর্বক দখল নেয় তারা। এ সময় দোকানে থাকা তৈরি ফার্নিচার ও মেশিনারিজসহ প্রায় ৮০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে বলে দাবি করা হয়েছে।

এর দুই দিন পর, গত ১৮ মে সকালে সাবিকুন নাহার ও তার আত্মীয়া হালিমা খাতুন দোকান খুলে ভেতরে প্রবেশ করলে আবারও হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্তরা দোকানে ঢুকে কাঠের বাটাম দিয়ে দুই নারীকে এলোপাতাড়ি মারধর করে রক্তাক্ত জখম করে। এ সময় তাদের ব্যবহৃত দুটি স্মার্টফোন মাটিতে আছড়ে ভেঙে ফেলা হয়।

এছাড়া দোকানে থাকা ভাড়াটিয়া আব্দুস সাত্তার বাবুর কাঠের ফার্নিচার, মেশিন ও অন্যান্য মালামাল জোরপূর্বক ভ্যানে তুলে নিয়ে যায় হামলাকারীরা।

এ বিষয়ে ফার্নিচার ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার বাবু বলেন- আমি ভাড়াটিয়া। দোকানে থাকা আমার ফার্নিচার ও ফার্নিচার তৈরীর যাবতীয় মেশিন যার মূল্য ৮০ লাখ টাকার উপরে- সব তারা নিয়ে গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আমি নায্য বিচার চাই।

জমির মালিক পক্ষের সাবিকুন নাহার বলেন, আমাদের জীবন এখন হুমকির মুখে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

এদিকে একই ঘটনায় মুস্তাকিন বিল্লাহ অনিকের মা শামীমা খাতুনও কলারোয়া থানায় পৃথক একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেছেন, শহীদ মিনার সংলগ্ন অনিকের ব্যাগের দোকানে শেখ শরিফুজ্জামান তুহিনসহ ১৫ থেকে ২০ জন ব্যক্তি জোরপূর্বক প্রবেশ করে। তারা অনিকের কাছে চার লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং টাকা না দিলে দোকান থেকে উচ্ছেদের হুমকি দেয়।

চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা অনিককে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে গুরুতর আহত করে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)কে রাত সাড়ে আটটায় কল দিলেও তিনি রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

একই দিনে পরপর দুটি ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী দ্রুত তদন্তসাপেক্ষে জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *