কালীগঞ্জে রাজনীতিক প্রভাব খাটিয়ে অন্যের জমি জোর পূর্বক দখল
স্টাফ রিপোর্টার: আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় জোরপূর্বক অবৈধ ভাবে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। সাতক্ষীরা কালিগঞ্জ উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের সুবর্ণগাছি গ্রামের ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে আব্দুস সালাম সরদারের স্ত্রী, নাছিমা খাতুন, বাদী হয়ে বিজ্ঞ আমলী আদালত নং – ০২, কালিগঞ্জ, সাতক্ষীরাতে, উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের সুবর্ণগাছি গ্রামের , মৃত – আরশাদ আলী সরদারের দুই পুত্র রেজাউল করিম (৪৮) এবং আবু তালেব (৫২), আনছার আলী সরদারের পুত্র, জাকির হোসেন (৩৬)পুত্র- খয়রাত সরদারের পুত্র জামির সরদার (৫০), আমিনুর রহমানের পুত্র রাহী ইসলাম (২৭), গোলাম মোস্তফার পুত্র ওহিদুল্লাহ গাজী (৩৩)সহ আরো ৬/৭ জন অজ্ঞাতনামা রেখে (১৯৭/২৬ কালিঃ) নং একটি মামলা দায়ের করেন। ভুক্তভোগীও নালিশের বিবরণে জানা যায় উপজেলার, রতনপুর ইউনিয়নের সুবর্ণগাছি মৌজায়,সি,এস,৯ নং খতিয়ান যাহার এস, এ,১৬ নং খতিয়ান যাহা বর্তমান জরিপে বি, আর, এস,৪৩ নং খতিয়ানের ৪৫ দাগে ১৫ শতক,বি,আর, এস,৫ নং খতিয়ানের ১২২ দাগে ০,৩০০ একর, ১৬৫ দাগে ০.৫৫০০ একর,১৮৯ দাগে ১.১০০০ একর বি,আর, এস, ১৭ নং খতিয়ানে ৪৫ দাগে ০.৫৯০০ একর ,বি, আর, এস, ২৫ নং খতিয়ানে ১৭ দাগে ০.২০০০ একর,৪৬ দাগে ০.১৩০০ একর,৬০ দাগে ০.০৩০০ একর,বি,আর,এস, ২৮ নং খতিয়ানে ১০২ দাগে ০.০৭০০ একর,১২১ দাগে ০.৩৩০০ একর,২০২ দাগে ০.২৩০০ একর,বি,আর,এস ৩২ নং খতিয়ানের ৯৭ দাগে ০.০৮০০ একর, ১৬২ দাগে ০.২১০০ একর,১৬৪ দাগে ০.২৬০০ একর, ২০৩ দাগে ০.৩৩০০ একর,বি, আর, এস,৭৫ নং খতিয়ানের ১৬৭ দাগে ০.৩৫০০ একর,বি,আর, এস, ৯৭ নং খতিয়ানে ৫২ দাগে ০.১৭০০ একর মোট ৪.৮১ একরের মাধ্যে ৮৮ শতক সম্পত্তি দীর্ঘদিন যাবত বাদিনীর শশুর গোলাম মোস্তফা, ভোগদখল করে আছে। সম্পত্তি দখল থাকা অবস্থায় বিবাদী রেজাউল করিম গং উক্ত জমি বিভিন্ন সময় অবৈধভাবে দখল করার চেষ্টা করলে। বাদীনির শ্বশুর গোলাম মোস্তফা বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সাতক্ষীরাতে – ১৪৫ ধারায় পি,৮৮৪/২৫ নং একটি মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালত বিষয়টি তদন্তের জন্য কালিগঞ্জ সহকারি কমিশনার ভূমিকে দায়িত্ব দেন । তিনি ২১-৭-২৫ তাং ১০০৬ নং স্মারকে ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তা রতনপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসকে তদন্তের দায়িত্ব দেন । ফলে, ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম উভয়পক্ষসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সরেজমিনে তদন্তকার্য সম্পন্ন করেন এবং বাদী বিবাদী সহ ৯ জনকে ভোগ দখলে দেখিয়েতিনি ২-১১-২৫ স্মারক নং ইউঃভূঃঅঃ/রতন/কালি/সাত-২০২৫-১০৯ (যুক্ত) মূলে সহকারি কমিশনার (ভূমি) কালিগঞ্জ সাতক্ষীরা-কে জানান।
উক্ত তদন্ত রিপোর্টটি সহকারি কমিশনার (ভূমি) কালিগঞ্জ কর্তৃক (৪ নভেম্বর ২০২৫ )তারিখে বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, সাতক্ষীরাতে প্রেরণ করেন। বাদী গোলাম মোস্তফা উক্তরিপোর্টের উপর আদালতে নারাজি দেন ।
তারই প্রেক্ষিতে অপর পক্ষে রেজাউল ইসলাম পিং আরসাদ সরদার বাদী হয়ে সুবর্ণগাছি গ্রামের মৃত নওসাদ সরদারের ছেলে গোলাম মোস্তফার নামে বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, সাতক্ষীরাতে, ১৪৫ ধারায় পি – ১৫২১/২৫ নং একটি মামলা দায়ের করেন। যাহা একই ভাবে সহকারি কমিশনার (ভূমি) কালিগঞ্জ কর্তৃক-১২/১১/২৫ তাং-এ ১৬৩২নং স্মারকে ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তা রতনপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস, কালীগঞ্জ, সাতক্ষীরাকে তদন্তের দায়িত্ব দেন। যাহার প্রেক্ষিতে- ইউনিয়ন ভুমি সরকারি কর্মকর্তা আব্দুর রহমান – ২৫/১/২৬ তারিকে (১৫ যুক্ত) নং স্মারকে সহকারি কমিশনার (ভূমি) কালিগঞ্জকে জানান, উল্লেখিত -৫৮ শতক সম্পত্তি সম্পূর্ণরূপে রেজাউলের দখলে আছে। যাহা- সহকারি কমিশনার (ভূমি) কালিগঞ্জ, সাতক্ষীরা কর্তৃক ২৮-১-২০২৬ তারিখে ৩১,৪৪,৮৭৪৭,০০০,১৯,০১১,২৫ নং স্মারকে বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সাতক্ষীরার নিকট প্রেরণ করেন। পৃথক দুইজন ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তার প্রথম জনের তদন্ত প্রতিবেদনে দখলদারগণের নাম এবং জমির পরিমাণ পৃথক পৃথক ভাবে দেখানো হয়েছে। কিন্তু, দ্বিতীয় ভূমি কর্মকর্তা আবাদুর রহমান-এর মনগড়া রিপোর্টের মাধ্যমে একক ভাবে সম্পূর্ণ ৫৮, শতক জমি রেজাউল ইসলাম এর নামে দখল প্রতিবেদন দাখিল করিয়াছেন। যাহা আদালতে বিচার্য বিষয় ।
সম্পত্তি দখল থাকা অবস্থায় বিবাদী ভূমিদস্যু রেজাউল গং উক্ত তদন্ত রিপোর্ট হাতে পাইয়া
বর্ণিত ০.৫৮ একর সম্পত্তির দখলসহ গোলাম মোস্তফা দিং-এর বসতবাড়ি হইতে উচ্ছেদের উদ্দেশ্যে আসামিগণ ১৮/২/২০২৬ তারিখে রাত আনুমানিক০১:৩০ ঘটিকার সময় আসামিরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে লোহার রড, রাম দা,শাবোল, এবং দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ বাদিনীর শ্বশুরের বসতবাড়িতে প্রবেশ করে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। বাদিনীর শ্বশুর গোলাম মোস্তফা ও বাদিনী নিজে ঘর থেকে বের হয়ে গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে ১ নং আসামী রেজাউল করিমের হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে বাদিনীর শ্বশুরের মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করে। তিনি বাম হাত দিয়ে আত্মরক্ষার করতে গেলে তার বাম হাতে লোহার রডের আঘাতে গুরুতর হাড়ভাঙ্গা যখম হয় এবং আমার শ্বশুর মাটিতে লুটিয়ে পড়ে অন্যান্য আসামিরা আমার শ্বশুরকে লোহার রড দ্বারা এলোপাথাড়ি আঘাত করতে থাকে। আমি ঠেকাতে গেলে তারা আমার চুলির মুঠি ধরে টেনে হিঁচড়ে মাটিতে ফেলে এবং এলোপাতাড়ি কিল, চর ,ঘুসি ,লাথি ,মেরে শরীরে বিভিন্ন স্থানে ফুলা রকম করে। ১ নং আসামীর হুকুমে ২,৩,ও ৫ নং আসামি ঘরে ঢুকে নগদ ৭৫ হাজার টাকা,১২ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন যাহার বর্তমান বাজার মূল্য (১,৪০ ০০০ হাজার টাকা) এবং ছয় আনা ওজনের দুল যাহার আনুমানিক বাজার মূল্য ৮০ হাজার টাকা সহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র লুট করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে ৪ নং আসামির নির্দেশ ২.২.৩.ও ৬ নং আসামিরা বোতল জাত পেট্রোল ছিটিয়ে বাদীনির শ্বশুরের টিনের চাল কাঠের বেড়াযুক্ত ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয় । বাদিনী ও তার পরিবার আত্মরক্ষা তাগিদে চিৎকার চেচামেছি করিলে প্রতিবেশী নজরুল ইসলাম সহ স্থানীয়রা ছুটে এসে বাধিনি ও তার পরিবার কে জীবন বাঁচাতে সক্ষম হলেও তাদের ঘরবাড়ি সহ সমস্ত আসবাবপত্র পুড়িয়ে ছাই হয়ে যায়।
বসত বাড়ির মালামাল লুট , ভাঙচুর ও অগ্নি সংযোগ করিয়া উক্ত ৫৮ শতক জমিসহ সর্বমোট ৮৮ শতক জমি সম্পূর্ণ অবৈধ ভাবে উচ্ছেদ করিয়া দখল লইয়াছে।
কিন্তু আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় থানা কর্তৃপক্ষ মামলা গ্রহণ না করে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেন বিধায় মামলা দায়রে বিলম্ব হইয়াছে।
বর্তমানে অসহায় পরিবারটি অত্যন্ত মানবতার জীবন যাপন করছে। এলাকাবাসী এ ব্যাপারে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং উর্দ্ধতম কর্তৃপক্ষের নিকট ন্যায় বিচারের দাবি জানান।

