শ্যামনগরে মায়ের পরকিয়ায় স্কুলছাত্রীর মৃত্যু: হত্যা নাকি আত্মহত্যা- তদন্তে পুলিশ
মোঃ ইসমাইল হোসেন, শ্যামনগর: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের জেলেখালিতে আয়সামনি (১৪) নামে অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাতে এ ঘটনা ঘটে, যা নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
খবর পেয়ে রাত আনুমানিক ৩টার দিকে শ্যামনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। প্রাথমিকভাবে নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন ও মাথায় রক্তক্ষরণের বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি করেছে—এটি আত্মহত্যা, নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জেলেখালি বাজার সংলগ্ন জেলেখালি-হরিনগর সড়কের পাশে একটি ভাড়া বাসায় মায়ের সঙ্গে বসবাস করত আয়সামনি। তার মা দুইবার বিয়ে করেছেন। প্রথম স্বামী আশরাফুলের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর তিনি বেলাল হোসেনকে বিয়ে করেন, যিনি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। দ্বিতীয় সংসারে তাদের একটি দুই বছরের কন্যাসন্তান রয়েছে।
প্রতিবেশীদের দাবি, বিপ্লব নামে এক যুবক—যাকে আয়সামনির মা ‘পাতানো ভাই’ হিসেবে পরিচয় দিতেন—নিয়মিত ওই বাসায় যাতায়াত করতেন। তিনি আবার বেলাল হোসেনের বন্ধু বলেও জানা গেছে। এ বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহতের মায়ের ভাষ্যমতে, রাত সাড়ে ৮টার দিকে কোচিং শেষে বাড়ি ফেরে আয়সামনি। পরে কোনো বিষয় নিয়ে বকাবকির জেরে অভিমান করে রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে নিজ কক্ষে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে।
তবে পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। ঘটনাটি আত্মহত্যা, নাকি হত্যা অথবা আত্মহত্যায় প্ররোচনার ফল- সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের মাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, এমন মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

