শ্যামনগরসাতক্ষীরা জেলা

শ্যামনগরে সুপেয় পানির সংকট তীব্র

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার উপকূলীয় উপজেলা শ্যামনগরে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র সুপেয় পানির সংকটে ভুগছে সাধারণ মানুষ। বছরের বেশ কয়েক মাসজুড়ে এই সংকট চরম আকার ধারণ করে। সরকারি ও বেসরকারিভাবে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত টেকসই সমাধান মেলেনি। উপজেলার গাবুরা, পদ্মপুকুর, মুন্সিগঞ্জ, রমজাননগর, কৈখালী ইউনিয়ন এবং দ্বীপাঞ্চল গোলাখালীর বাসিন্দারা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে রয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকৃতিনির্ভর ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাবে পানির সংকট দিন দিন আরও প্রকট হয়ে উঠছে। জানা গেছে, ৬ নম্বর রমজাননগর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভেটখালী গ্রামের “কাছারি পুকুর” বর্তমানে এলাকাবাসীর অন্যতম ভরসা। এই মিঠাপানির পুকুরের ওপর নির্ভর করছেন রমজাননগর ও কৈখালী ইউনিয়নের আংশিক এলাকার মানুষ। তবে ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে পুকুরটির পানি দিয়েও চাহিদা পূরণ সম্ভব হচ্ছে না। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ২০১১ সালে রমজাননগরের ঠাকুরঘিরি এলাকায় একটি পানি সরবরাহ প্রকল্প নির্মাণ করা হয়েছিল। শুরুতে সেই প্রকল্প থেকে কিছুটা হলেও মানুষের ভোগান্তি কমেছিল। কিন্তু বর্তমানে সেটি অকার্যকর হয়ে পড়েছে। টেংরাখালী গ্রামের বাসিন্দা শাহিনুর রহমান বলেন, “আমাদের বাড়ি থেকে ঠাকুরঘিরি প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে। প্রথম দিকে ভালো পানি পাওয়া গেলেও এখন সেই ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে পুকুরের পানি ব্যবহার করতে হচ্ছে।” রমজাননগর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মনোরঞ্জন মিস্ত্রি বলেন, “চারদিকে নদী থাকায় গরমের সময় পানির রং লাল হয়ে নষ্ট হয়ে যায়। সরকারিভাবে যে উদ্যোগ নেওয়া হয়, নদীর উচ্চচাপ ও ঝড়ে তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। লবণাক্ত পানি ব্যবহারের কারণে নারী ও শিশুদের মধ্যে বিভিন্ন রোগ বাড়ছে।” তিনি আরও বলেন, দুর্গম এলাকার কারণে অনেক সময় প্রয়োজনীয় সহায়তাও পাওয়া যায় না। ৬নং রমজাননগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখ আল মামুন বলেন, “এই অঞ্চলে প্রতি তিন কিলোমিটার পরপর পরিবেশ ও ভূ-প্রকৃতির পরিবর্তন দেখা যায়। শুধু পানির সংকট নয়, উপকূলীয় এলাকায় আরও নানা সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে সরকারি-বেসরকারি সব দফতরের সমন্বয়ে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি।” স্থানীয়দের দাবি, উপকূলীয় অঞ্চলের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে টেকসই ও প্রকৃতিনির্ভর পানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা না গেলে ভবিষ্যতে সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *