কালিগঞ্জরাজনীতিলিডসাতক্ষীরা জেলা

কালিগঞ্জে মব সৃষ্টি করে অধ্যাপিকার ঘর দখল

স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার শ্রীকলা গ্রামে এক কলেজ অধ্যাপিকার ক্রয়কৃত সম্পত্তিতে ‘মব’ (উত্তেজিত জনতা) সৃষ্টি করে দখলবাজি, ভাঙচুর ও সপরিবারে উচ্ছেদের চেষ্টার ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে। বিবাদীদের বেআইনি তান্ডব এবং প্রকাশ্যে ‘রক্তগঙ্গা’ বইয়ে দেওয়ার হুমকিতে বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ঘরের মধ্যে অবরুদ্ধ হয়ে দিন কাটাচ্ছে ভুক্তভোগী পরিবারটি। এই ঘটনায় জান্নাতুল বুশরা (৩৪) বাদী হয়ে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৫ ধারায় মামলা দায়ের করেছেন।

শনিবার (০৯ মে ২০২৬) সকালে সরোজমিন সূত্রে যানা যায়, আদালতে দাখিলকৃত আরজি শ্রীকলা গ্রামের মৃত আব্দুস সাত্তারের কন্যা জান্নাতুল বুশরা তার পিতার কাছ থেকে ২০২২ সালে ০.০৮৭৪ একর জমি (খতিয়ান নং ২৫-৮৭৮, আর.এস ১১৬৬ দাগ) ক্রয় করে একটি দোতলা ভবন নির্মাণ করেন এবং সেখানে দীর্ঘ ৫-৬ বছর ধরে বসবাস করছেন। অভিযোগ উঠেছে, বাদীর ভাই মো. আব্দুস সবুর (শিমুল), তার স্ত্রী মহসিনা, আব্দুল খালেক এবং একদল প্রভাবশালী চক্র কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই এই সম্পত্তি দখলের ষড়যন্ত্র করে আসছিল। তারই ধারাবাহিকতায় গত ৩ এপ্রিল ২০২৬ শুক্রবার জুমার নামাজের পর স্থানীয় ৯ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শেখ ফিরোজ আহম্মেদের নেতৃত্বে ৫০-৬০ জনের একটি সশস্ত্র ‘মব’ জান্নাতুল বুশরার সীমানায় প্রবেশ করে।

তারা বাগানের গাছপালা কেটে ফেলে, ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় এবং ওয়াশরুমের তালা ও ঘরের দরজা ভেঙে অনধিকার প্রবেশ করে দখল নেয়। এক হৃদয়বিদারক অভিযোগে জান্নাতুল বুশরা জানান, গত ৩ এপ্রিল তার পিতা মারা গেলেও এই প্রভাবশালী চক্রটি তাকে তার বাবার শেষ মুখটুকু পর্যন্ত দেখতে দেয়নি। তিনি পিরোজপুর জেলার ঘোষকাটি কলেজে অধ্যাপনা করার সুবাদে কর্মস্থলে থাকার সুযোগে এই দখলবাজি চালানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি ও তার পরিবার প্রাণের ভয়ে নিজ ঘরের ভেতর অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

অভিযুক্ত শেখ ফিরোজ আহম্মেদ প্রকাশ্যে দম্ভোক্তি করে বলেছেন, এখানে কোনো সরকারি আইন নেই। আমি যা বলব তাই হবে। তোমাদের সব কাগজপত্র ভুয়া।এমনকি এই নৃশংস হামলার ভিডিও ধারণ করতে গেলে ভিডিওকারীকে গলায় পা দিয়ে জিহ্বা টেনে বের করার হুমকি দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। মামলায় সাক্ষী রেহানা পারভীন ও মাকছুরা পারভীন জানান, দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মবকারীরা পরিকল্পিতভাবে এই দখলবাজি চালিয়েছে। ভুক্তভোগী জান্নাতুল বুশরার অভিযোগ, থানা পুলিশকে জানিয়েও কোনো কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায়নি। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, আমার ক্রয়কৃত ও দখলীয় ঘরে কালিগঞ্জ থানার ওসি মো. জুয়েল হোসেন নিজেই আসামিদের থাকার অনুমতি দিয়েছেন কোন আইনে? ২৫ এপ্রিল পরবর্তী সময় জমির কাগজ পত্র দেখার কথা বললেও ওসি তা না দেখে দখলবাজদের আমার ঘরে তুললেন কীভাবে?এ বিষয়ে কালিগঞ্জ থানার ওসি মো. জুয়েল হোসেনকে জিঙ্ঘেস করলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমি জানি। এসআই জাকির হোসেন তদন্ত করছেন। আগামী ২৫ এপ্রিল উভয় পক্ষকে কাগজপত্র নিয়ে বসতে বলা হয়েছে।

এদিকে, থানার সালিশে উপস্থিত কালিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ডা. শফিকুল ইসলাম বাবু বলেন, মব তৈরি করে এই দখলদারিত্ব সম্পূর্ণ অন্যায়। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই। এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

বর্তমানে শ্রীকলা এলাকায় চরম উত্তেজনা ও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আরেফিন জুয়েল, বিপিএম-সহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত হস্তক্ষেপ না করলে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। ন্যায়বিচারের আশায় এখন প্রহর গুনছে ভুক্তভোগী পরিবারটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *