কালিগঞ্জে রাস্তা দখল নিয়ে সংঘর্ষ, নারীসহ গুরুতর আহত-৩
তাপস কুমার ঘোষ, কালিগঞ্জ: কালিগঞ্জ উপজেলার গাঙ্কুলিয়া গ্রামে দীর্ঘদিনের চলাচলের পথ জবরদখলকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং একজন নারীর স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে আহতরা কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী আব্দুর রাশেদ (৩৪) লিখিত অভিযোগে জানান, গত ৬ জুলাই রাত আনুমানিক ২টার সময় তার শ্বশুর আব্দুর রউফ ঢালী, শ্বাশুড়ি খায়রুন্নেছা বেগম এবং শ্বশুরের মাতা রোকেয়া খাতুন ঘুম থেকে উঠে দেখতে পান, জনৈক আব্দুর রহিমের ধানের চাতালের পাশের বহুদিনের চলাচলের পথটি জোরপূর্বক দখলের উদ্দেশ্যে কিছু লোক মাটি কাটছে। এতে বাধা দিলে সংঘবদ্ধভাবে প্রায় ১৫ জন লোক লোহার রড, শাবল ও বাঁশের লাঠি নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলার সময় বিবাদী মোঃ সুবহান ঢালী ধারালো দা দিয়ে আব্দুর রউফের মাথায় কোপ মারার চেষ্টা করলে কোপটি চোখের নিচে পড়ে রক্তাক্ত জখম হয়। অন্যদিকে, মোঃ জাকির হোসেন নামের আরেক ব্যক্তি রোকেয়া খাতুনের কান থেকে চার আনার ওজনের স্বর্ণের দুল ছিনিয়ে নেন, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩৬ হাজার টাকা। হামলাকারীরা খায়রুন্নেছা বেগমের শ্লীলতাহানির চেষ্টাও চালায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ও আব্দুর রাশেদ ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। এদিকে, ঘটনার পরদিন সকাল থেকে অভিযুক্তরা উক্ত স্থানে ঘর নির্মাণ ও পাকা প্রাচীর তৈরির কাজ শুরু করে এবং ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে হুমকি দিয়ে বলেন, কাজে কেউ বাধা দিলে প্রাণে মেরে ফেলা হবে।এতে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং যে কোনো সময় বড় ধরণের সহিংসতা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে কালিগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মোঃ হারুন অর রশিদ মৃধা বলেন, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অন্যদিকে অভিযুক্ত সুবহান ঢালী বলেন, ওই পথটি আমার জমির ওপর দিয়ে যায়। এতে আমি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি। উল্টো রউফ ঢালীরা আমাকে মারধর করে দাঁত ভেঙে দিয়েছে। এখন আবার মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।
এ নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

