কালিগঞ্জে বীর নিবাসের নামে আত্মসাৎকৃত টাকা ফেরত চেয়ে বৃদ্ধা আলেয়ার আকুতি
তাপস কুমার ঘোষ,কালিগঞ্জ: সরকারি ‘বীর নিবাস’ প্রকল্পের ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল হাকিমের বিরুদ্ধে এক বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ সাংবাদিকের পরিবারের কাছ থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারটির দাবি, সরকার বিনামূল্যে ঘর প্রদান করলেও চেয়ারম্যানের নেওয়া টাকা আজও ফেরত দেওয়া হয়নি।
রবিবার (১৭ মে) সকালে সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দুদলী গ্রামের প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রথিতযশা প্রবীণ সাংবাদিক রজব আলীর পরিবারকে সরকারি ‘বীর নিবাস’ প্রকল্পের আওতায় ঘর পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম। সেই আশ্বাসে বিশ্বাস করে পরিবারের পক্ষ থেকে চেয়ারম্যানের হাতে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে পরবর্তীতে সরকারিভাবে বিনামূল্যে ঘর বরাদ্দ পেলেও ওই টাকা আর ফেরত মেলেনি।
বর্তমানে পরিবারটি চরম দুর্দশার মধ্যে দিন পার করছে। কিছুদিন আগে আলেয়া বেগমের বড় ছেলে কেএম আমিনুর রহমান ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। স্বামী ও উপার্জনক্ষম ছেলেকে হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বৃদ্ধা আলেয়া বেগম।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন,সরকার তো আমাকে বিনামূল্যে ঘর দিয়েছে। তাহলে চেয়ারম্যান আমার ছেলের কাছ থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা কেন নিলেন? আমার ছেলে অসুস্থ হয়ে মারা গেছে, এখন আমার ওষুধ কেনারও টাকা নেই। আমি আমার কষ্টের টাকা ফেরত চাই। প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেব।
স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, শুধু এই পরিবারই নয় কালিগঞ্জ উপজেলার আরও অন্তত ১১ থেকে ১২ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কাছ থেকেও বিভিন্ন ভাবে টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিমের বিরুদ্ধে। তবে দীর্ঘদিন ক্ষমতার প্রভাব ও সামাজিক চাপের কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাননি। বর্তমানে কয়েকটি পরিবার প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। তার দাবি,এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি মহল রাজনৈতিক ভাবে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
এদিকে, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ সাংবাদিকের পরিবারের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ সামনে আসায় স্থানীয় সচেতন মহল, মুক্তিযোদ্ধা সমাজ ও সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে দ্রুত টাকা ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

