কালিগঞ্জের মহেশ্বরপুর খাল উন্মুক্ত স্বস্তিতে ১০ গ্রামের মানুষ
তাপস কুমার ঘোষ, কালিগঞ্জ: দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী মহেশ্বরপুর খাল অবশেষে উন্মুক্ত করেছেন স্থানীয় জনসাধারণ। কৃত্রিম বাঁধ দিয়ে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বন্ধ করে রাখার ফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় প্রায় ১০টি গ্রামের অন্তত ২০০ পরিবার দীর্ঘদিন মানবেতর জীবনযাপন করছিল। অবশেষে রবিবার (১৭ মে) বেলা ১১টার দিকে এলাকাবাসী স্বতঃস্ফূর্তভাবে একত্রিত হয়ে বাঁধ অপসারণ করে পানি চলাচল স্বাভাবিক করেন।
সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মহেশ্বরপুর খালে অবৈধভাবে বাঁধ নির্মাণের কারণে দীর্ঘ সময় ধরে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে পড়ে। এতে মহেশ্বরপুরসহ আশপাশের অন্তত ১০টি গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে। পানিবন্দী হয়ে পড়া পরিবার গুলোর পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েন কৃষক ও মৎস্যচাষীরা।
পানি আটকে থাকায় শত শত বিঘা জমির আমন ধান, শীতকালীন সবজি এবং অন্যান্য ফসল নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়। এছাড়া অসংখ্য মাছচাষির পুকুর প্লাবিত হয়ে মাছ ভেসে যাওয়ায় তারা আর্থিক ভাবে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হন। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের অবহেলা ও কিছু স্বার্থান্বেষী মহলের কারণে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
পরিস্থিতির চরম অবনতি হলে স্থানীয় জনগণ নিজেরাই উদ্যোগ নেন। ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. আব্দুস সাত্তারের উপস্থিতি ও নেতৃত্বে এলাকাবাসী খালের অবৈধ বাঁধ কেটে পানি চলাচলের পথ উন্মুক্ত করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ভুক্তভোগী কৃষকসহ দুই শতাধিক গ্রামবাসী। তাদের মধ্যে ছিলেন মো. গোলাম মোস্তফা, নুর ইসলাম গাজী, সিরাজুল ইসলাম, আয়ুব আলী, জাহাঙ্গীর সরদার, হামিদ সরদার, শেখ আকবর, আব্দুল কুদ্দুস, শওকত আলী গাজী ও মোজাফফর গাজী প্রমুখ।
খালের বাঁধ অপসারণে অংশ নেওয়া কয়েকজন কৃষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্বার্থান্বেষী একটি মহল পানি চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় আমাদের ফসল মাঠেই নষ্ট হচ্ছিল। মাছের ঘের ও পুকুর ডুবে গিয়ে লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। বহুবার বলেও কোনো সমাধান পাইনি। অবশেষে গ্রামবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজেরাই উদ্যোগ নিয়েছি। এখন পানি নামতে শুরু করায় স্বস্তি ফিরেছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আব্দুস সাত্তার বলেন, জনগণের জীবন ও কৃষি রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ করে দিয়ে পুরো এলাকার মানুষকে দুর্ভোগে ফেলা হয়েছিল। আজ এলাকাবাসীর দাবির মুখে খালটি উন্মুক্ত করা হয়েছে। এতে কৃষক ও সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন।
মহেশ্বরপুর খাল পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ায় ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাওয়ার আশায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে স্থানীয় সচেতন মহল ভবিষ্যতে যাতে কেউ পুনরায় খালে অবৈধ বাঁধ দিতে না পারে, সে জন্য প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি ও স্থায়ী পদক্ষেপ দাবি করেছেন।

