কালিগঞ্জলিড

কালিগঞ্জে বিদেশে পাঠানোর প্রলোভনে কোটি টাকা আত্মসাতকারি আব্দুল করিমের বিরুদ্ধে মানববন্ধন

তাপস কুমার ঘোষ, কালিগঞ্জ: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আব্দুল করিম গাইনের বিরুদ্ধে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী। বুধবার (২৯ এপ্রিল) বেলা ১১টায় কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে প্রধান সড়কে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, উপজেলার ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের গান্ধুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল করিম গাইন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে বিদেশে পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ভুক্তভোগীরা জানান, কেউ ৭ লাখ, কেউ ১০ থেকে ১৪ লাখ, আবার কেউ ১৮ লাখ টাকা পর্যন্ত দিয়েছেন বিদেশ যাওয়ার আশায়। কিন্তু বছরের পর বছর পার হলেও কেউ বিদেশ যেতে পারেননি, এমনকি টাকা ফেরতও পাননি।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, টাকা ফেরতের জন্য যোগাযোগ করলে অভিযুক্ত ব্যক্তি উল্টো ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং দেশের বিভিন্ন জেলায় মিথ্যা মামলার হুমকি দেন। এতে তারা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

এদিকে, জানা গেছে যে গত মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) একটি প্রতারণা মামলায় নড়াইল সদর থানা পুলিশ আব্দুল করিমকে আটক করে কালিগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করে। পরে তাকে সাতক্ষীরার আদালতে পাঠানো হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন এলাকা থেকে শতাধিক মানুষ থানার সামনে জড়ো হন।

মানববন্ধনে ভুক্তভোগীদের মধ্যে মারুফ হোসেন, আরিফুল ইসলাম, জহুরুল ইসলাম, ফরিদ হোসেন, সোহরাব হোসেন, মশিউর রহমান, আবুল কাশেম গাইনসহ আরও অনেকে বক্তব্য রাখেন। তারা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের আইনের আওতায় আনা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ ফেরতের দাবি জানান।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আব্দুল করিম দীর্ঘদিন ধরে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে ছিলেন। কখনো বিদেশে, কখনো ঢাকায় অবস্থান করে তিনি প্রতারণার কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন। প্রায় পাঁচ বছর ধরে তিনি এলাকায় নিয়মিত আসেন না বলেও দাবি করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, এ ধরনের প্রতারণার ঘটনায় সাধারণ মানুষ নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। তাই দ্রুত তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং ভুক্তভোগীদের পাওনা অর্থ ফেরত দিতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

কর্মসূচি শেষে অংশগ্রহণকারীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *