কালিগঞ্জ

কালিগঞ্জে পোস্ট অফিসের চোরাই গ্রিল উদ্ধার: ভাঙারি ব্যবসায়ী ও নাইটগার্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ

মাসুদ পারভেজ, কালিগঞ্জ: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় পোস্ট অফিসের চুরি হওয়া পুরোনো গ্রিল উদ্ধারকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় এক ভাঙারি ব্যবসায়ী ও পোস্ট অফিসের এক নাইটগার্ডের বিরুদ্ধে চোরাই মালামাল ক্রয়-বিক্রয়ের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত (১৯ মে) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে কালিগঞ্জ পোস্ট অফিসের পুরোনো গ্রিল চুরি হয়। পরে স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলার বাজারগ্রাম রহিমপুর এলাকার বদর উদ্দিনের ছেলে ভাঙারি ব্যবসায়ী ঈমান আলীর দোকান থেকে ওই গ্রিল উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেন এলাকাবাসী। স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা সদরের সাতসজ্জা ফার্নিচার দোকানের মালিক আব্দুল গফুর ঘটনাস্থলে চোরাই মালামাল বিক্রির বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেন। তিনি বসন্তপুর এলাকার মানউল্লাহর ছেলে।

এ ঘটনায় পোস্ট অফিসের নাইটগার্ড বাজারগ্রাম রহিমপুর এলাকার মেছের আলী গাজীর ছেলে ইনতাজ আলীর সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, তার সহযোগিতায় চুরি হওয়া গ্রিল বিক্রি করা হয়েছে। এছাড়া ভাঙারি ব্যবসায়ী ঈমান আলীর বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন স্থান থেকে চোরাই মালামাল ক্রয়-বিক্রয়ের অভিযোগ রয়েছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা চোরাই মালামাল ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে সরকারি প্রতিষ্ঠানের মালামাল চুরির ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

এ বিষয়ে কালিগঞ্জ পোস্ট অফিসের পোস্টমাস্টার সৈকত ঘোষ সাংবাদিকদের জানান, পোস্ট অফিসের গ্রিল চুরির ঘটনা সত্য এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত নাইটগার্ড ইনতাজ আলীর বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি। স্থানীয়দের আশা, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *