সাতক্ষীরার লাবসা বিলে অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি
স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরা সদরের লাবসায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের করার কারনে স্থায়ী জলাবদ্ধায় শতশত পরিবারের কয়েক হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিপাতে এবং অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের করার কারনে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার লাবসা ইউনিয়নের মাগুরা, তালতলা, কৈখালী, গোপিনাথপুর, বিনেরপোতা, খেজুরডাঙ্গা, রাজনগর, মথুরাপুর, দেবনগর, নলকুড়া সহ লাবসা ইউনিয়নের শতশত পরিবারের কয়েক হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে তালতলা ঈদগাহ মোড় থেকে কৈখালী মাদ্রাসা পর্যন্ত রাস্তা, মাগুরা আইসক্রিম ফেক্টরী থেকে দাসপাড়ার ইটের সোলিং রাস্তা, মাগুরা কর্মকর পাড়ার পাকা রাস্তা পানির নিচে। রাস্তায় পানি জমার কারনে স্কুল পড়ুয়া শিশুদের স্কুলে যেতে ব্যাপক অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে। এছাড়া মাগুরা গ্রামের পুকুর ও জলাসয় পানিতে ডুবে মাছ ভেসে গেছে। অত্র এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আঙিনা ও কৃষি জমি পানিতে ডুবে গেছে। এদিকে, লাবসা ইউনিয়নের মাগুরা-গোপিনাথপুর ও বিনেরপোতা এলাকায় সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কের দুই ধারে মৎস্য ঘের করার কারনে মহাসড়কে ব্যাপক ভাবে ক্ষতি হচ্ছে। এছাড়া বিনেরপোতা বিসিক শিল্পনগরীর মোড় থেকে বাইপাশ সড়কের লাবসা মোড় পর্যন্ত দুই ধারে অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের করার কারনে বাইপাস সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে যাচ্ছে এবং ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। মাগুরা-কৈখালী শৈলকুর বিলে মাত্র ১৫/১৬ টি ঘেরের কারনে বৃষ্টির পানি আটকে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম আসার আগেই এই সমস্ত মৎস্য ঘের ব্যবসায়ীরা স্কেবেটর ব্যবহার করে ঘেরের বেড়ি বাঁধ উঁচু করেন। যার কারনে একটু বৃষ্টি হলেই গ্রামের মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়ে। এক সময় শৈলকুর বিলের গেটের খাল দিয়ে মাগুরা ও কৈখালী গ্রামের পানি বেতনা নদী দিয়ে সরে যেতো। লাবসা ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে যাওয়া কুলুটিয়ার খাল, গোপিনাথপুর খাল দিয়ে গ্রামের পানি বেতনা নদীর মাধ্যমে অপসারন হতো। কিন্তু গত ৭/৮ বছর কিছু অসাধু মৎস্য ঘের ব্যবসায়ীরা অপরিকল্পিত ভাবে ঘের করার কারনে মাগুরা, তালতলা, কৈখালী, গোপিনাথপুর, বিনেরপোতা, খেজুরডাঙ্গা, দেবনগর, মথুরাপুর, রাজনগর, এগারানি সহ লাবসা ইউনিয়নের প্রায় সব কয়টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ স্থায়ী জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে দুঃর্বিসহ জীবন-জাপন করছে। এব্যাপারে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার অর্ণব দত্ত বলেন, শৈলকুর বিলের পানি সরানো জন্য আমি স্থানীয় লাবসা ইউপি চেয়ারম্যানকে পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দিচ্ছি, উনি মৎস্য ঘের মালিক ও গ্রামবাসীদের নিয়ে আলোচনা করে জলাবদ্ধতার পানি সরানোর ব্যবস্থা করবেন। যদি চেয়ারম্যান ব্যর্থ হয় আমি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে পানি অপসারণ করবো।

