লিডশ্যামনগরসাতক্ষীরা জেলা

তীব্র লোডশেডিং ও তাপদাহে বিপর্যস্ত জনজীবন; শ্যামনগরে ব্যাহত হচ্ছে সেচ ও শিকার

জি এম আব্দুল কাদের, শ্যামনগর: দেশজুড়ে চলমান তীব্র তাপদাহের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে শ্যামনগর উপজেলায় বাড়ছে লোডশেডিং। দিনে এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলে পরবর্তী দেড় ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে।

ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা এখন চরম দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। প্রচণ্ড গরমে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে হিট স্ট্রোক ও ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি বাড়ছে। হাসপাতালগুলোতে জরুরি চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হওয়ায় ভোগান্তিতে চরম ঝুঁকিতে রোগীরা।

বর্তমানে ইরি-বোরো ও রবি শস্যের ভরা মৌসুম। সেচ পাম্পগুলো সময়মতো চালাতে না পারায় ফসলের ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকরা।

চলমান তাপদাহে দিনে পড়ালেখা করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। তার ওপর রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

বিদ্যুৎ সংকটে ক্ষুদ্র ও মাঝারি কলকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। জেনারেটর ব্যবহারের চেষ্টা করলেও পেট্রোল পাম্পগুলোতে তেলের তীব্র সংকটের কারণে সেটিও সম্ভব হচ্ছে না।সংশ্লিষ্টদের মতে, বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত গ্যাস ও কয়লার অভাব এবং গরমের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা সক্ষমতার চেয়ে অনেক বেড়ে যাওয়াই এই সংকটের মূল কারণ। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে শ্যামনগর উপজেলায় কৃষি ও শিক্ষা ব্যবস্থায় অপূরণীয় ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয়রা আরো বলেন, শ্যামনগর উপজেলা সদরের একটু বিদ্যুৎ থাকলেও বিভিন্ন ইউনিয়নে ৬/ থেকে ৭ঘন্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছে। এতে করে প্রচন্ড তাপদাহে সাধারণ মানুষ অসুস্থতার দিকে পড়ে যাচ্ছে।

এবিষয়ে শ্যামনগর জোনাল অফিসের ডিজিএম মোঃ জিয়াউর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শ্যামনগর প্রায় ৮৫ হাজার গ্রাহক রয়েছে। এখানে ক্যাপাসিটি ২০/ থেকে ২২ কেবি বিদ্যুৎ থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে আমরা পাচ্ছি ১০/থেকে ১১ কেবি বিদ্যুৎ। যার কারণে লোডশেডিং এর বিকল্প কিছুই নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *