কালিগঞ্জের গোবিন্দপুরে পৈতৃক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ
তাপস কুমার ঘোষ, কালিগঞ্জ: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কুশুলিয়া ইউনিয়নের গোবিন্দপুর (বড়) মৌজায় পৈতৃক সম্পত্তি জোরপূর্বক ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কেটে দখলের অভিযোগ উঠেছে। জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিরোধের জেরে যে কোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী পক্ষ।
ভুক্তভোগী নজরুল ইসলাম (৭০) জানান, গত ২৬ মে ২০২৬ তারিখে তিনি প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কালিগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে অভিযোগপত্র ও সরেজমিনে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, উপজেলার গোবিন্দপুর মৌজার ৪৯১ (খ) মৌজার ১৫২৯ নম্বর দাগভুক্ত ১৫ শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।অভিযোগকারী দাবি করেন, জমিটি তাদের পৈতৃক সম্পত্তি এবং এসএ, আরএস রেকর্ড, খতিয়ান, খাজনা, দাখিলা ও মিউটেশনসহ সকল বৈধ কাগজপত্র তাদের নামে রয়েছে। তবে এসব কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও প্রতিপক্ষ তাদের জমিতে যেতে বাধা দিচ্ছে এবং বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও হামলার হুমকি দিচ্ছে।লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, গোবিন্দপুর গ্রামের মৃত খাদেম আলীর ছেলে তাছের সরদার, হারুন সরদারসহ অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জন গত ২৫ মে সন্ধ্যায় ভেকু মেশিন দিয়ে বিরোধপূর্ণ জমি থেকে জোরপূর্বক মাটি কাটতে শুরু করেন। এ সময় নজরুল ইসলাম ও তার স্বজনরা বাধা দিতে গেলে তাদের অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ, মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।ভুক্তভোগী আরও জানান, একই জমি নিয়ে পূর্বে আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে এবং মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন। আদালত উভয় পক্ষকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিলেও সেই নির্দেশ অমান্য করে প্রতিপক্ষ জমিতে মাটি কাটছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং যে কোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।এ ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।স্থানীয় ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন বলেন, উভয় পক্ষকে নিয়ে একাধিকবার বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করেছি। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, বিবাদীপক্ষ প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করছে এবং আইনকে তোয়াক্কা করছে না। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র ও রেকর্ড পর্যালোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত।এ বিষয়ে কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, আমি সম্প্রতি থানায় যোগদান করেছি। অভিযোগটি আগের। উভয় পক্ষ থানায় উপস্থিত হলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

