খেলাধূলারাজনীতিলিডসদরসাতক্ষীরা জেলা

সাতক্ষীরা জেলা ক্রীড়া অফিসারের অপসারণ দাবিতে অবেহিলত নারী খেলোয়াড়দের মানববন্ধন

স্টাফ রিপোর্টার: দীর্ঘদিন ধরে একই অফিসে থেকে নানান দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়া, অনিয়ম করে নিজের স্বার্থ উদ্ধার ও খেলোয়াড়দের প্রতি চরম বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে সাতক্ষীরা জেলা ক্রীড়া অফিসার মাহাবুবুর রহমানের অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন জেলার অবহেলিত- অসহায় নারী খেলোয়াড়রা।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) বেলা ১২টার দিকে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের নারী খেলোয়াড়দের পাশাপাশি জেলার ক্রীড়া সংগঠকরা সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্যও দেন।

মানববন্ধনে খেলোয়াড়দের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে বিশেষ করে বক্তব্য দেন স্বনামখ্যাত ক্রীড়া সংগঠক ও জাতীয় নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার প্রান্তি’র পিতা খন্দকার আরিফ হাসান প্রিন্স। খেলোয়াড়দের মধ্যে বক্তব্য দেন উম্মে ফাতেমা উর্মি, সোহেলী আক্তার শামীমা, সালমা খাতুন, নদী বিশ্বাস ও মেহেদী রাজু প্রমুখ।

খেলোয়াড়রা অভিযোগ করে বলেন, জেলা ক্রীড়া অফিস থেকে খেলোয়াড়দের প্রয়োজনীয় ক্রীড়া সরঞ্জাম, জার্সি ও অনুদান সঠিকভাবে বিতরণ করা হয় না। প্রকৃত খেলোয়াড়দের বাদ দিয়ে অফিস স্টাফ বা খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন- যারা খেলা করে না- এমন ব্যক্তিদের নামে অনুদান দেওয়া হচ্ছে। যখন তালিকা করা হয়েছিল তখন আমাদের মোবাইল নাম্বার ঠিক নেই, আমরা অবসর গ্রহন করেছি, আমাদের সার্টিফিকেট ঠিক নেই- এমনতর উদ্ভট কথা বলে আমাদের মেয়ে খেলোয়াড়দের বাদ দেয়া হয়েছে। যা চরম বৈষম্য ছাড়া কিছুই নয়।

অবহেলার শিকার নারী খেলোয়াড়রা বলেন, দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসে সমাজের বিভিন্ন মানুষের নানান কথা সহ্য করে আমরা খেলা করি। সাধারণ গেঞ্জি পরে অনুশীলন করলেও জেলা ক্রীড়া অফিস থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাই না। আমাদের অনেককে অনেক সময় টাকা ধার করে নিয়ে যাতায়াত খরচ যোগাতে হয়। অথচ জেলা ক্রীড়া অফিসার আমাদের কোন ধরনের সহযোগীতা করে না। সরকার প্রতি বছর বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ দেয় সেসব বরাদ্দের অর্থ কোথায় যায় তা আমরা জানিনা উল্লেখ করে খেলোয়াড়রা বলেন- অফিসে খেলার সরঞ্জাম ফেলানো থাকলেও আমাদের দেয়া হয় না।

বক্তারা বলেন, আমরা কঠোর পরিশ্রম করে জাতীয় পর্যায়ে সাতক্ষীরার সুনাম বয়ে আনছি। অথচ আমাদের ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। ঠিকমত অফিসে না এসে, কেশবপুরের বাড়ীতে থেকে সাতক্ষীরায় এসে অফিস করে বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে অভিযুক্ত জেলা ক্রীড়া অফিসারের অপসারণ এবং একজন সৎ, দক্ষ ও খেলোয়াড়বান্ধব কর্মকর্তার নিয়োগ চাই।

অভিযোগের বিষয়ে জেলা ক্রীড়া অফিসার মাহাবুবুর রহমান বলেন, সাতক্ষীরা জেলা থেকে জাতীয় ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ক্রীড়া ভাতা ও ক্রীড়া শিক্ষা বৃত্তির জন্য ১১৪ জন আবেদন করেছিলেন। জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে জেলা কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই শেষে ৯৮ জনের তালিকা জাতীয় ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশনে পাঠানো হয়। পরে জাতীয় কমিটি পুনরায় যাচাই-বাছাই করে ৪৩ জনকে ভাতার জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করেছে।

তিনি আরও বলেন, আমার কাছে মনে হয়েছে, ভাতা না পাওয়ার ক্ষোভ থেকেই কিছু খেলোয়াড় আমার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে। তবে এখানে ব্যক্তিগতভাবে আমার কিছু করার ছিল না। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জাতীয় কমিটিই নিয়েছে।

মানববন্ধন শেষে খেলোয়াড়রা এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত করে অবহেলিত- অসহায় নারী খেলোয়াড়দের প্রতি সুবিচার করতে জেলা ক্রীড়া অফিসারের বদলীসহ অন্যান্য বিষয়ে ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *