কালিগঞ্জে ৬ষ্ঠ স্ত্রী খাদিজাকে মারপিট করার অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে
তাপস কুমার ঘোষ, কালিগঞ্জ: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নের শীতলপুর গ্রামে গৃহবধূ নির্যাতনের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় দুই সন্তানের জননী খাদিজা খাতুন বর্তমানে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার স্বামী আব্দুর রবের বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ে ও দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার (৩ মে) বেলা প্রায় ১২টার দিকে পারিবারিক বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে। সোমবার (৪ মে) হাসপাতালে গিয়ে ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, স্বামী নতুন করে আরেকটি বিয়ের উদ্যোগ নিচ্ছিলেন, যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল। এছাড়া অপরিপক্ক আমে রাসায়নিক ব্যবহার করে দ্রুত পাকিয়ে বাজারজাত করার অভিযোগে তিনি প্রতিবাদ করলে স্বামী ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং তাকে মারধর করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, আব্দুর রব তার ষষ্ঠ স্ত্রী খাদিজা খাতুনকে বেধড়ক মারধর করলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি শারীরিক ভাবে দুর্বল থাকার পাশাপাশি মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছেন।
ভুক্তভোগী খাদিজা খাতুন আরো বলেন, অনেক দিন ধরেই আমাকে বিভিন্ন অজুহাতে নির্যাতন করা হচ্ছিল। স্বামীর একাধিক বিয়েকে কেন্দ্র করে সংসারে অশান্তি লেগেই থাকত। এবার নিজের নিরাপত্তা নিয়েই শঙ্কায় আছি, তাই আইনের আশ্রয় নিয়েছি।
এ ঘটনায় কালিগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অভিযুক্ত আব্দুর রব অভিযোগের আংশিক সত্যতা স্বীকার করে বলেন, রাগের মাথায় মারধর করেছি, তবে বিষয়টি এত গুরুতর হয়ে যাবে বুঝতে পারিনি।অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তিনি বিভিন্ন ভাবে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেছেন।
কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জুয়েল হোসেন জানান, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, এলাকাবাসী ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি নির্যাতনের শিকার গৃহবধূর পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন ও সমাজের সচেতন মহলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

