আশাশুনিলিডশিক্ষাঙ্গনসাতক্ষীরা জেলা

আশাশুনিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্মাণকাজে ধীরগতিতে শিশুদের শিক্ষা ও খেলাধুলা ব্যাহত

স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার দয়ারঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময় ২০২৪ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনও পর্যন্ত মাত্র প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পের আওতায় ওয়াশব্লকের কাজ হয়েছে মাত্র ২০ শতাংশ এবং টিউবওয়েলের কাজ সম্পন্ন হয়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ। সময়মতো কাজ শেষ না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগের মধ্যে পাঠ গ্রহণ করছে।

বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ বর্তমানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ব্লক, নির্মাণসামগ্রী ও অন্যান্য মালামালে ভরাট হয়ে আছে। এতে শিশুরা খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

স্থানীয়দের ভাষায়, মাঠটি এখন কার্যত নির্মাণসামগ্রীর গুদাম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। শিক্ষক ও অভিভাবকদের অভিযোগ, ছোট শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য খেলাধুলা জরুরি হলেও মাঠ দীর্ঘদিন ধরে অনুপযোগী থাকায় তা ব্যাহত হচ্ছে। নতুন ভবন ব্যবহারযোগ্য না হওয়ায় বিদ্যালয়ে পাঠদান চলছে টিনশেড ও অস্থায়ী ছাপরা ঘরে। গরম ও বৃষ্টির মধ্যে দুর্বল অবকাঠামোতে ক্লাস করায় শিক্ষার্থীরা চরম কষ্টে রয়েছে বলে জানান শিক্ষকরা।

অভিভাবকরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নকাজ ঝুলে থাকায় বিদ্যালয়ে নিরাপদ ও শিশুবান্ধব পরিবেশ নেই। এতে শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে দাবি তাদের। স্থানীয়দের কেউ কেউ পরিস্থিতিকে শিশুদের প্রতি অবহেলা ও নির্দয় আচরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাদের মতে, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমন অবস্থা গ্রহণযোগ্য নয়। স্থানীয় বাসিন্দা রাবেয়া খাতুন বলেন, দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করে বিদ্যালয়কে পূর্ণাঙ্গ পাঠদানের উপযোগী করার দাবি জানাচ্ছি। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনায় শিশুরা শিক্ষা ও খেলাধুলা- দুই দিক থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি মাঠ পরিষ্কার করে খেলাধুলার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুর্শিদা পারভীন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তবে সম্প্রতি মাঠে রাখা ব্লক সরানোর কাজ শুরু হয়েছে। তিনি দ্রুত বাকি কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ রুহুল আমীন বলেন, দয়ারঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়া এবং মাঠে নির্মাণসামগ্রী পড়ে থাকার বিষয়টি তিনি জানেন। দ্রুত কাজ শেষ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে একাধিকবার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের পাঠদান অব্যাহত রাখতে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং মাঠ পরিষ্কার করে শিশুদের খেলাধুলার উপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *