কালিগঞ্জে তেল বিতরণে বিশৃঙ্খলা: বন্ধ ফিলিং স্টেশন, বিপাকে সরকারি চাকুরীজীবী, শিক্ষক-সাংবাদিকরা
তাপস কুমার ঘোষ: দেশজুড়ে চলমান জ্বালানি সংকটের প্রভাব থেকে মুক্ত নয় সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলাও। সংকট মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের জন্য আলাদা সময়সূচি নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দেখা দিয়েছে চরম বিশৃঙ্খলা।
উপজেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সাধারণ মোটরসাইকেল চালকদের জন্য এবং বিকাল ৫টা থেকে রাত ৭টা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের চাকরিজীবী, সাংবাদিক ও শিক্ষকদের জন্য জ্বালানি তেল সরবরাহের সময় নির্ধারণ করা হয়। ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাইনুল ইসলাম খানের তত্ত্বাবধানে ট্যাগ অফিসারের মাধ্যমে সুষম বণ্টন কার্যক্রম শুরু হয়।
তবে বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকাল ৫টার পর নির্ধারিত সময়ে চাকরিজীবী, শিক্ষক ও সাংবাদিকরা কালিগঞ্জ ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে গেলে পরিস্থিতি উল্টো রূপ নেয়। অভিযোগ উঠেছে, সাধারণ মোটরসাইকেল চালকদের নির্ধারিত সময় শেষ হলেও কিছু উচ্ছৃঙ্খল বাইকার স্টেশন ত্যাগ না করে বিশৃঙ্খল আচরণ শুরু করেন। এতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।
পরিস্থিতি বিবেচনায় ট্যাগ অফিসার ও ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িক ভাবে স্টেশন বন্ধ ঘোষণা করেন। ফলে নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত চাকরিজীবী, শিক্ষক ও সাংবাদিকরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও তেল নিতে ব্যর্থ হন।
পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে জানিয়ে দেওয়া হয়, দিনের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ায় আর কোনো মোটরসাইকেলে তেল সরবরাহ করা সম্ভব নয় এবং উপস্থিত সবাইকে স্টেশন ত্যাগ করার অনুরোধ জানানো হয়।
এ অবস্থায় অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ না করে নীরবে স্থান ত্যাগ করেন। তবে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করতে দেখা যায়। তাদের দাবি, প্রশাসনের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও কঠোর নজরদারি না থাকায় নির্ধারিত পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীরা বঞ্চিত হয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, জ্বালানি সংকটের এই সময়ে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে আরও কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে উচ্ছৃঙ্খল আচরণকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

