শিমুলবাড়িয়ায় মাদকবিরোধী পদক্ষেপ গ্রহণ করায় মদদদাতা কর্তৃক দুজনকে কুপিয়ে জখম
স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরার শিমুলবাড়িয়ায় মাদকবিরোধী পদক্ষেপ গ্রহণ করায় মাদক ব্যবসায়ী মাহফুজার মদদদাতা আব্দুর রহমান বাবলুর নেতৃত্বে দু’জনকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনা ঘটেছে।
গত ৪ এপ্রিল রাত সাড়ে ৮ টার দিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ী ইউনিয়নের শিমুলবাড়ীয়া গ্রামে মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় কয়েকদিন পর বাড়িতে বল যাওয়ার ঘটনায়, দুইজনকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে। জানা যায়, শিমুলবাড়ীয়া গ্রামের আ: রহমান বাবলু, আ: রাশেদ সরদার ও শাহরিয়ার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসায়ীদের মদদ দিয়ে আসছিলেন। এ কারণে গ্রামবাসী একত্রিত হয়ে শিমুলবাড়িয়া ক্লাবের সদস্যদের সহযোগীতা চান। ক্লাবের নেতৃবৃন্দ এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে গণস্বাক্ষর কর্মসূচী হাতে নেয় এবং সেই কর্মসূচীতে প্রায় সাড়ে ৩ শত মানুষ স্বাক্ষর করেন।
পরে তারা গ্রামের মেম্বার, চেয়ারম্যান এমনকি বর্তমান সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেকের কাছে গণস্বাক্ষরিত লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক সুপারিশও করেছেন। উক্ত অভিযোগে গ্রামের মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জোরালো দাবি জানানো হয়। এ অভিযোগে মাদক ব্যবসায়ী মাহফুজার মদদদাতারা ক্ষিপ্ত হয়ে পরিকল্পনা করতে থাকে একপর্যায়ে গত ৪ এপ্রিল বিকালে আব্দুর রহমানের বাড়িতে খেলার বল যাওয়ার পর তার ছেলে শাহরিয়ারের সাথে খেলোয়াড়দের বাক-বিতন্ডা হয়। এরই জের ধরে রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে শিমুলবাড়ীয়া ক্লাবের সভাপতি জয়নাল সরদার ও যুগ্ম সম্পাদক হাবিবুর রহমানকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়।
অভিযুক্ত মাদক ব্যবসায়ীর মদদদাতারা চাইনিজ কুড়াল, লোহার রড এবং বাঁশের লাঠি দিয়ে তাদের উপর আক্রমণ চালায়। হামলায় গুরুতরভাবে আহত জয়নাল ও হাবিবুরসহ কয়েকজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। এর আগে আব্দুর রহমান বাবলু মোবাইল ফোনে শিমুলবাড়ীয়া ক্লাবের সভাপতি জয়নাল সরদারকে জীবননাশের হুমকি দেয়। এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুদুর রহমান স্বীকার করে বলেন, শিমুলবাড়িয়ার ঘটনায় আমাদের কাছে একটি লিখিত এজাহার দায়ের হয়েছে। তবে হামলার ৪ দিন গত হলেও অদৃশ্য কারণে মাদক ব্যবসায়ীর মদদদাতা আব্দুর রহমান বাবলুর বিরুদ্ধে কোন মামলা দায়ের হয়নি।
এ ঘটনায় আহতরা সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। অভিযুক্ত আব্দুর রহমান বাবলু ফোন রিসিভ না করায় হামলার বিষয়ে তার কোন বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে জানার জন্য বুধবার রাত সাড়ে ৮ টার পরে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুদুর রহমানের মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। ফলে মামলা রেকর্ড হয়েছে কিনা জানা যায়নি। স্থানীয় গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, মাদক ব্যবসার কারণে তরুন সমাজের অভিভাবকরা দীর্ঘদিন ধরেই আতঙ্কের মধ্যে জীবন যাপন করছেন। প্রধান অভিযুক্ত আব্দুর রহমান বাবলুর ছেলে শাহরিয়ার হোসেন হৃদয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আস্ফালন করে লিখেছে- তোমাদের নেতাগিরি ছুটাই দিমু’। উক্ত হামলা ও অভিযুক্তদের আস্ফালনের ফলে গ্রামবাসীদের মধ্যে আরও আতঙ্ক বাড়িয়ে দিয়েছে। এ জন্য তারা সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সুদৃষ্টি কামনাসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তৎপরতার সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জোর দাবী জানিয়েছেন।

