লিডসদরসাতক্ষীরা জেলা

বৃষ্টির পানিতে ভাসছে সাতক্ষীরা

স্টাফ রিপোর্টার: থেমে থেমে হওয়া কয়েক দিনসহ বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত একটানা চলা বৃষ্টির পানিতে ভাসছে সাতক্ষীরা। শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম- সবত্রই এখন পানিতে থৈ থৈ। রাস্তাঘাট, বাসাবাড়ি, বাজার, ফসলের ক্ষেত্র ও মৎস্য ঘের তলিয়ে একাকার হয়ে গেছে।

সবচেয়ে বেশি সমস্যা দেকা দিয়েছে সাতক্ষীরা পৌর অভ্যান্তরে। কারো কারো ঘরে খাটের নিচে পানি। কারো রান্নাঘরে পানি। আবার কারো কারো স্যানিটেশন ব্যবস্থায় চলছে ১০ নম্বর সংকেত। উপায় নেই। এতো বেশি বেশি বলার পরও পৌর কর্তৃপক্ষ নিচ্ছে না কোন ব্যবস্থা।

আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত চার দিনে সাতক্ষীরায় ২৮০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। নিষ্কাশন ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ায় জমা পানি নামতে পারছে না। সাতক্ষীরা পৌরসভার পলাশপোল, কাটিয়া, রসুলপুর, ইটাগাছা, বকচরা, মেহেদীবাগ ও খুলনা রোড এলাকার প্রধান সড়কগুলোতে হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি। দোকানে পানি ঢুকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলাসহ অন্যান্য উপজেলার পরিস্থিতিও একই রকম। তালা, কলারোয়া, দেবহাটা, কালিগঞ্জ, আশাশুনি ও শ্যামনগরের নিচু এলাকা পুরোপুরি প্লাবিত। বিশেষ করে উপকূলীয় আশাশুনি ও শ্যামনগরে জোয়ার ও বৃষ্টির যৌথ চাপে বহু ঘরবাড়ি ও চিংড়ি ঘের তলিয়ে গেছে। টানা বৃষ্টির কারণে দিনমজুর, রিকশা-ভ্যানচালক ও নির্মাণশ্রমিকদের কাজ পুরোপুরি বন্ধ।

শহরের রসুলপুরের বাসিন্দা ভ্যানচালক মন্টু সরদার জানান, চার দিন ধরে আয় বন্ধ। শহরে আয় কমে এসেছে। টিপটিপ বৃষ্টি পড়ায় ইজিবাইক রেখে মানুষ ভ্যানে চলতে চায় না। কৃষি বিভাগের প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, জেলায় প্রায় ১২ হাজার হেক্টর আমন ধানের জমি প্লাবিত হয়েছে। মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, শত শত ঘেরের বাঁধ ভেঙে বিপুল পরিমাণ সাদা মাছ ও চিংড়ি ভেসে গেছে। এছাড়া জলাবদ্ধতার ফলে ডায়রিয়া, চর্মরোগ ও জ্বরের প্রকোপ বাড়ছে। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে প্রতিদিনই ভর্তি হচ্ছেন বিপুল রোগী।

জেলা প্রশাসন থেকে ইতিমধ্যে ৪০ মেট্রিক টন চাল ও ৮ লাখ টাকা উদ্ধার সহায়তায় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, অনেক দুস্থ পরিবার এখনো কোনো ত্রাণ সহায়তা পায়নি। সচেতন মহলের মতে, অপরিকল্পিত নগরায়ন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়া এবং খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ থাকার কারণেই এই স্থায়ী জলাবদ্ধতা। সংকট নিরসনে স্থায়ী ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের জোরালো দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *