মেয়ে সাজিদা হত্যার শোকে কালিগঞ্জে পিতার স্টোকে মৃত্যুর অভিযোগ
কালিগঞ্জ প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কুশুলিয়া ইউনিয়নের চন্ডীতলা গ্রামের আলোচিত গৃহবধূ সাজিদা খাতুন হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, মামলার প্রকৃত আসামিদের বাদ দিয়ে ঘটনাকে ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। এদিকে মেয়ের মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে নিহত সাজিদার পিতা কেরামত আলী মোল্লাও স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে জানিয়েছে পরিবার।
রবিবার (১০ মে) সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতে কেরামত আলী মোল্লার মৃত্যু হয়। স্থানীয় সূত্র ও স্বজনদের দাবি, মেয়ের আকস্মিক মৃত্যুর শোক ও মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে মৃত্যুবরণ করেন।
এর আগে একই দিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে নিহত সাজিদার পরিবার। সেখানে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহতের ভাই আব্দুল খালেক।
লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, সাজিদা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রথমে পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়া হলেও পরবর্তীতে রহস্যজনকভাবে তা পরিবর্তন করে মাত্র দুইজনকে আসামি দেখানো হয়েছে। এতে প্রকৃত অপরাধীরা আইনের আওতার বাইরে থেকে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জুয়েল হোসেন তড়িঘড়ি করে তাকে আরেকটি এজাহারে স্বাক্ষর করান, যা তার দেওয়া মূল অভিযোগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ওসির ভূমিকা নিরপেক্ষ তদন্তকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে বলেও দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে নিহতের স্বজনরা বলেন, সাজিদা খাতুন দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক নির্যাতনের শিকার ছিলেন। ঘটনার দিন রাতেও তাকে মারধর করা হয় বলে তারা দাবি করেন। পরে গুরুতর অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি আত্মহত্যা নয়; বরং পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (৮ মে) রাত সাড়ে ১০টার দিকে চন্ডীতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সাজিদা খাতুন (৩৫) ওই গ্রামের মনিরুল ইসলামের স্ত্রী। তাদের সংসারে দুই ছেলে সন্তান রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সাজিদার বাবার বাড়ি উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের উত্তর রঘুনাথপুর গ্রামে। প্রায় এক দশক আগে শরিয়ত মোতাবেক চন্ডীতলা গ্রামের গফুর গাজীর ছেলে মনিরুল ইসলামের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।
ঘটনার পর কালিগঞ্জ থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে স্বামী মনিরুল ইসলাম, তার ভাই আবু সাঈদ গাজী ও সহোদর নুরুজ্জামান গাজীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে।
তবে ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড এ বিষয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে নিহত পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন।

