সাতক্ষীরার সীমান্তে বিজিবির অভিযান: প্রায় ১০ লাখ টাকার চোরাচালানী মালামাল জব্দ
গাজী হাবিব: সাতক্ষীরা ও কলারোয়া সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে প্রায় ১০ লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয় শাড়ি ও ঔষধ জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, রোববার (১৮ জানুয়ারি) সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি)-এর অধীনস্থ কালিয়ানী, মাদরা, কাকডাঙ্গা, বৈকারী ও সুলতানপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় একযোগে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন স্থান থেকে সর্বমোট ৯ লাখ ৮২ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের চোরাচালানী মালামাল উদ্ধার করা হয়।
এর মধ্যে কালিয়ানী বিওপির বিশেষ আভিযানিক দল মেইন পিলার ৯/৪ এস হতে আনুমানিক ৪০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সাতক্ষীরা সদর থানাধীন ছয়ঘরিয়া এলাকা থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় ঔষধ জব্দ করে। কাকডাঙ্গা বিওপির আভিযানিক দল মেইন পিলার ১৩/৩ এস-এর ৩ আরবি থেকে আনুমানিক ৪০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কলারোয়া থানাধীন কেরাগাছি এলাকা থেকে ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় ঔষধ উদ্ধার করে।
মাদরা বিওপির বিশেষ দল মেইন পিলার ১৩/৩ এস-এর ০৮ আরবি হতে আনুমানিক ১৫০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কলারোয়া থানাধীন চাঁন্দামাঠ এলাকা থেকে ৫২ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের ভারতীয় শাড়ি আটক করে।
এছাড়া বৈকারী বিওপির আভিযানিক দল মেইন পিলার ৭/৬৪ এস হতে আনুমানিক ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সাতক্ষীরা সদর থানাধীন আমবাগান এলাকা থেকে ৭০ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় ঔষধ এবং সুলতানপুর বিওপির বিশেষ আভিযানিক দল মেইন পিলার ১৫/৬ এস হতে আনুমানিক ৩০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কলারোয়া থানাধীন তালশারি এলাকা থেকে ১২ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় ঔষধ জব্দ করে।
বিজিবি জানায়, উদ্ধারকৃত এসব মালামাল শুল্ককর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভারত থেকে বাংলাদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল। এ ধরনের চোরাচালানের ফলে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সরকার উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। জব্দকৃত মালামাল আইনানুগ প্রক্রিয়ায় সাতক্ষীরা কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এদিকে দেশের রাজস্ব সুরক্ষা, স্থানীয় শিল্পের বিকাশ এবং যুবসমাজকে মাদকাসক্তির ভয়াল থাবা থেকে রক্ষার লক্ষ্যে বিজিবির চলমান অভিযানের প্রশংসা করেছেন সীমান্ত এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার ও নিয়মিত চালু রাখার দাবি জানিয়েছেন।

