জীবিকায়নে স্বাবলম্বী হওয়ার পথে আরও এক ধাপ এগোলেন সাতক্ষীরার নারীরা
বিশেষ প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় নারীদের আত্মকর্মসংস্থান ও টেকসই জীবিকায়নের লক্ষ্য নিয়ে দক্ষতা ভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় পাঁচটি ট্রেডে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীদের মাঝে সনদ ও আর্থিক সহায়তা বিতরণ করেছে জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর। বেলা ১২টায় জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের সভাকক্ষে আয়োজিত এই সমাপনী অনুষ্ঠানে ৪১টি ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদ ও অর্থ তুলে দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মধ্যে ছিল শো-পিস ও হ্যান্ডিক্রাফ্ট, টেইলরিং, বিউটি ফিকেশন, কম্পিউটার এবং মোবাইল সার্ভিসিং। এসব প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারীরা বাস্তবমুখী দক্ষতা অর্জন করে নিজ নিজ ক্ষেত্রে আয়মুখী কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নাজমুন নাহার বলেন, নারীরা যদি দক্ষ হয়, তবে পরিবার থেকে শুরু করে সমাজ ও রাষ্ট্র উপকৃত হয়। এই প্রশিক্ষণ শুধু সনদের জন্য নয়, নারীদের বিশ্বাস ও স্বাবলম্বিতার ভিত গড়ে দিতেই এই উদ্যোগ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কর্মসূচি কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জোহরা। তিনি বলেন, প্রশিক্ষণার্থীদের এই দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে আমরা নিয়মিত পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান করব।
বিশেষ অতিথি সিনিয়র সাংবাদিক শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন বলেন, এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নারীদের জীবন বদলের গল্প তৈরি করছে, যা সমাজের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে। তিনি বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন শুধু একটি শ্লোগান নয়, এটি সমাজ পরিবর্তনের সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার। এই দক্ষতা ভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে নারীরা আজ আর সহায়তার অপেক্ষায় নেই, তারা নিজেরাই নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার সাহস অর্জন করছে।
তিনি আরও একজন নারী যখন আয়মুখী দক্ষতা অর্জন করে, তখন সে পরিবারে অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের অংশীদার হয়—যা শিশুদের শিক্ষা ও সুস্থ জীবনের নিশ্চয়তাও তৈরি করে।
সাতক্ষীরার মতো প্রান্তিক জেলায় এ ধরনের প্রশিক্ষণ নারীদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠার পথ খুলে দিচ্ছে।
সরকার ও প্রশাসনের এই উদ্যোগ যদি বাজারসংযোগ ও ধারাবাহিক সহায়তার সঙ্গে যুক্ত থাকে, তাহলে নারী নির্ভর একটি শক্তিশালী স্থানীয় অর্থনীতি গড়ে উঠবে।
গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে আমরা শুধু সংবাদ পরিবেশনেই সীমাবদ্ধ থাকতে চাই না, বরং নারীদের সাফল্যের গল্প সমাজের প্রতিটি স্তরে পৌঁছে দিয়ে অনুপ্রেরণা তৈরি করতে চাই।
চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের ডিস্ট্রিক্ট রিপোর্টার আমিনা বিলকিস ময়না বলেন, দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি নারীদের বাজারসংযোগ নিশ্চিত করা জরুরি, তাহলেই এই উদ্যোগের পূর্ণ সফলতা আসবে।
প্রশিক্ষকদের পক্ষে নূরীয়া নাজনিন বলেন, প্রশিক্ষণার্থীদের শেখার আগ্রহ ও নিষ্ঠা ছিল প্রশংসনীয়। তারা নিজেরাই নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
প্রশিক্ষণার্থীদের পক্ষে সোহানা আক্তার শান্তা বলেন, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমি এখন নিজে কাজ করে আয় করতে পারছি, পরিবারে আমার মূল্যায়ন বেড়েছে।
অনুষ্ঠান শেষে প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সনদ ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও নারীদের ক্ষমতায়নে এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

