দলের দুঃসময়ে মাঠে থাকা আব্দুল আলিমকে সাতক্ষীরা-২ আসনে মনোনয়ন দাবীতে মানববন্ধন
গাজী হাবিব: দলের দুঃসময়ে মাঠে থাকা নেতা চেয়ারম্যান আব্দুল আলিমকে সাতক্ষীরা-২ আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার দাবীতে মানববন্ধন করেছে তার সমার্থকরা। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) বেলা ১১ টার দিকে সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কের বিনেরপোতা এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানবন্ধন থেকে সাতক্ষীরা-২ (সদর-দেবহাটা) আসনে বিএনপি কেন্দ্র ঘোষিত প্রার্থী চেয়ারম্যান আব্দুর রউফের মনোনয়ন প্রত্যাহার এবং দীর্ঘ ১৭ বছর দলের কঠিন সময়ে মাঠে থাকা নেতা চেয়ারম্যান আব্দুল আলিমকে মনোনয়ন দেওয়ার জোরালো দাবি জানানো হয়। মানববন্ধন চলাকালে শত শত মানুষ ব্যানার ছাড়াই স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিনত করে। কেউ ব্যানার হাতে- কেউ ফেস্টুন, কেউবা দলীয় পতাকা ও চেয়ারম্যান আব্দুল আলিমের ছবি নিয়ে মানববন্ধনে যোগ দেয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন- গত দেড় দশকে দলের ভেতরে বাইরে যে দুঃসময় গেছে- সেই সময়ে চেয়ারম্যান আব্দুল আলিম মাঠে থেকে নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রেখেছেন। রাজনৈতিক প্রতিকূলতা পাশ কাটিয়ে মামলা-হামলা-ক্রসফায়ারের ভয়ে যেখানে অনেক নেতাই মাঠে ছিলেন না, সেখানে মানুষের বাড়ী বাড়ী ঘুরে তৃণমূলকে আগলে রেখেছেন এই আলিম চেয়ারম্যান। বিএনপির অস্তিত্ব সংকটের সময়েও সাতক্ষীরায় সংগঠন ধরে রেখেছিলেন তিনি। অথচ প্রচারবিমুখ এই মানুষটার ভাগ্যে আজ মনোনয়ন জুটলো না। পরীক্ষিত নেতারা দলে উপেক্ষিত হলে দলের অস্তিত্ব বিলীন হতে সময় লাগে না। দলের সুখ-দুঃখের সময় যে নেতা পাশে ছিলেন, তাকেই মনোনয়ন দেওয়া দলের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনবে। তাই তৃণমূলের একটাই দাবি-তাকেই মনোনয়ন দিতে হবে।
বক্তারা উল্লেখ করেন, দু’দফায় ক্রসফায়ারের মামলার আসামি হয়েও আলিম চেয়ারম্যান বারবার হুমকি-নির্যাতন সহ্য করে দল ও কর্মীদের পাশে থেকেছেন। সাতক্ষীরা সদরের লা্বসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচনে তিনি সাতবার নির্বাচিত হয়েছেন। প্রশাসনিক দক্ষতা, সাধারণ মানুষের মাঝে জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা থাকা চেয়ারম্যান আব্দুল আলীমকে এবার দলীয় মনোনয়ন দিলে জয়ের মালা পরিয়ে তাকে সংসদে পাঠাতে আমরা প্রস্তুত।
এদিকে মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, ঘোষিত প্রার্থী চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ দল থেকে বহিষ্কৃত এবং বর্তমানে তিনি দলের কোনো দায়িত্বেও নেই। এমন একজনকে মনোনয়ন দেওয়াকে ‘অযৌক্তিক, বাস্তববর্জিত এবং তৃণমূলবিচ্ছিন্ন সিদ্ধান্ত’ হিসেবে দেখছে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। তৃণমূল এই সিদ্ধান্ত মেনে নেবে না; কারণ জনগণের সমর্থন ও মাঠের বাস্তবতা বিবেচনা না করে মনোনয়ন দিলে নির্বাচনী ফলাফল নেতিবাচক হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ধানের শিষের পরাজয় ঠেকানো কঠিন হয়ে যাবে।
মানববন্ধন থেকে নেতাকর্মীরা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন- জনগণের প্রত্যাশার বাইরে গিয়ে সিদ্ধান্ত নিলে আমরা আরো কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবো। আলিম চেয়ারম্যানকে মনোনয়ন না দেওয়া হলে লাগাতার কর্মসূচি দেওয়া হবে।
মানববন্ধনে সদর উপজেলার বল্লী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সেলিম হোসেন মন্টুর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গণির সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন- সাতক্ষীরা সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য মো. আতিয়ার রহমান, লাবসা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মো. শাহিন ইসলাম, ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আবুল হাসান ও সাধারণ সম্পাদক মো. নাসিম বিল্লাহ, বউকুড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ইউনুচ আলী বুলু ও সাধারণ সম্পাদক মো. তজিবুর রহমান টুটুল, বাঁশদা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ডা. নজরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মো. আকতারুল ইসলাম, ভোমরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. শাহিনুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মো. বজলু রহমান (মেম্বার), শিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. হাফেজ তাজুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক টুটুল হোসেন, ঘোনা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. কামরুজ্জামান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সিনিয়র সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ইসমাইল হোসেন নিরব।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষ জানান, আলিম চেয়ারম্যান শুধু রাজনৈতিক নেতা নন, এলাকার ভালো-মন্দে সাধারণ মানুষের পাশে থাকেন। দরিদ্র পরিবারের চিকিৎসা-সহায়তা, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে মানুষের ঘরে ঘরে দৌড়ে যাওয়া- এসবের জন্যই তাঁর প্রতি মানুষের আস্থা ও ভালবাসা তৈরি হয়েছে। এজন্য তাকে সাতক্ষীরা-২ আসন থেকে মনোনয়ন দিলে ধানের শীষ বিপুল ভোটে জয় লাভ করবে।

