রাজনীতিলিডসদরসাতক্ষীরা জেলা

জাতীয়তাবাদী ক্রীড়াদল সাতক্ষীরা জেলা কমিটি নিয়ে বিতর্ক: একযোগে ১২ নেতার পদত্যাগ

স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ক্রীড়াদলের সাতক্ষীরা জেলা শাখার সদ্য ঘোষিত আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে বিতর্ক ও অসন্তোষ দেখা দেওয়ার জেরে একযোগে ১২ জন পদত্যাগ করেছেন। কমিটিতে বিতর্কিত ও আওয়ামী সরকারের সুবিধাভোগী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ তুলে একযোগে পদত্যাগ করেন শীর্ষ নেতা ও সংগঠকরা।

পদত্যাগকারী নেতারা জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় নেতাদের সিদ্ধান্তে গঠিত এ কমিটিতে তৃণমূলের ত্যাগী খেলোয়াড় ও সংগঠকদের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে। তাদের দাবি, এতে প্রকৃত কর্মী ও মাঠপর্যায়ের যোগ্য ব্যক্তিদের মূল্যায়ন করা হয়নি।

তাদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক নিয়াজ মোর্শেদ এবং সদস্য সচিব মো. জাহেদ পারভেজ চৌধুরীর স্বাক্ষরে প্রকাশিত কমিটি গঠনের সময় খুলনা বিভাগের নেতৃবৃন্দ, এমনকি কেন্দ্রীয় সদস্য মো. হুমায়ুন কবির ডাবলুসহ সংশ্লিষ্টদের কোনো মতামত নেওয়া হয়নি। বরং বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সুবিধাভোগী ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থান দেওয়া হয়েছে।

পদত্যাগকারী নেতাদের মধ্যে রয়েছেন- মো. অহিদুজ্জামান, ইকবাল কবির খান, মো. মাসুদ, তাপস কুমার সরকার, মো. আরিফুল ইসলাম রিপন, মো. মহাসিন, জি. এম মাহমুদুল হক লালটু, মো. হযরত আলী, মো. শামীম হাসান সাঈদ, সুকুমার দাশ বাচ্চু, মো. শরিফুল ইসলাম, মো. অজিয়ার রহমান ও মো. সাইফ হাসান মুকুল।

এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, দলের দুর্দিনে আমরা রাজপথে থেকে ক্রীড়াঙ্গনকে সংগঠিত করার চেষ্টা করেছি। অথচ এখন ত্যাগী ও পরীক্ষিত কর্মীদের বাদ দিয়ে সুবিধাভোগীদের নিয়ে ‘পকেট কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। এমন কমিটির সঙ্গে কাজ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

তারা অবিলম্বে এই কমিটি বাতিল করে ত্যাগী ও সক্রিয় কর্মীদের সমন্বয়ে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানান। পাশাপাশি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এদিকে, কেন্দ্রীয়ভাবে গোলাম ফারুক বাবুকে আহ্বায়ক এবং মীর তাজুল ইসলাম রিপনকে সদস্য সচিব করে ৭১ সদস্যের কমিটি ঘোষণার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে দলীয় তৃণমূল নেতাকর্মী ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

সাতক্ষীরা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, যারা বিগত সময়ে আওয়ামী লীগ থেকে সুবিধা নিয়েছেন, তারাই এখন জেলার বিভিন্ন কমিটিতে নেতৃত্বে আসছেন।

অন্যদিকে, ‘বিএনপি নেটওয়ার্ক সাতক্ষীরা’ নামক একটি ফেসবুক আইডি থেকে বিতর্কিত ব্যক্তিদের সুবিধাভোগী ছবি প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলা হয়েছে- এই যদি হয় নেতৃত্ব, তাহলে ত্যাগীরা যাবে কোথায়?

সার্বিক পরিস্থিতিতে সাতক্ষীরার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *