যশোরশার্শা

সনদ জালিয়াতির প্রমাণ মিলেছে শার্শার ৩ মাধ্যমিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে

হাসানূল কবীর: যশোরের শার্শা উপজেলাধীন চালিতাবাড়িয়া গ্রামস্থ “চালিতাবাড়িয়া আরডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়” এর ৩ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে সনদ জালিয়াতির মাধ্যমে চাকরিতে যোগদানের প্রমাণ পেয়েছে সিআইডি। জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়াই প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা কমিটির তৎকালীন সভাপতিসহ ৪ জনের নামে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে সিআইডি যশোর।

বৃহস্পতিবার (০৯ এপ্রিল) বাদীর আইনজীবী রুহিন বালুজ গণমাধ্যমকে এই তথ্য দিয়েছেন।

সিআইডি’র প্রতিবেদনে অভিযুক্ত ৪ জন হলেন- চালিতাবাড়িয়া আরডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ, সহকারী শিক্ষক (কৃষি) মোছাঃ  সালেহা খাতুন, সহকারী শিক্ষক (শারীরিক শিক্ষা) মোঃ ইদ্রিস আলী এবং বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির তৎকালিক সভাপতি ও কায়বা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি হাসান ফিরোজ আহমেদ টিংকু।

মামলার নথিপত্রে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর ৭নং কায়বা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ রুহুল কুদ্দুস বাদী হয়ে ৮ জনকে আসামি করে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শার্শা আমলী আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে- বাদী ইউপি চেয়ারম্যান থাকাকালীন ২০১৫ সালে বিদ্যালয়টি পরিদর্শনে যেয়ে দেখতে পান ৭ জন শিক্ষক জাল সনদে কর্মরত আছেন। এ বিষয়ে তিনি লিগ্যাল নোটিশ পাঠাইলে অভিযুক্ত শিক্ষকরা স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা ও স্কুলের সভাপতি হাসান ফিরোজ আহমেদ টিংকুর শরণাপন্ন হন। এ সময় তিনি বাদীর বুকে পিস্তল ঠেকিয়ে বলেন, “আরডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জালিয়াতির ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করলে খুন করে ফেলবো”। বাদী তৎকালীন শার্শা থানা বিএনপি’র যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক পদে ছিলেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জাল সনদধারী উক্ত ৩ জন শিক্ষক অনেকবছর ধরে অবৈধভাবে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করে আসছেন। সনদ জালিয়াতি ও হুমকি-ধামকির সত্যতা মেলায় ম্যানেজিং কমিটির তৎকালীন সভাপতি হাসান ফিরোজ আহমেদ টিংকুসহ উক্ত ৪ জনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।

বাদী রুহুল কুদ্দুস জানান, ২০১৫ সালের ২০ জুলাই রাতে সভাপতি টিংকু অর্ধশত সন্ত্রাসী নিয়ে তার বাড়ি ঘেরাও করেন এবং বুকে পিস্তল ঠেকিয়ে বলেন, “আরডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জালিয়াতির ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করলে খুন করে ফেলবো”। বাদী বিএনপি’র রাজনীতি করার কারণে সে সময় পিছু হটেন এবং ২০২৪ সালে আওয়ামীলীগ সরকারের পতন হলে তিনি মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করেন। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে সিআইডি’কে তদন্তের নির্দেশ দেন।

সিআইডি যশোরের উপ-পরিদর্শক বখতিয়ার হোসেন তদন্ত শেষে আদালতে দাখিলকৃত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন- সহকারী শিক্ষক আবুল কালাম আজাদের ২০১০ সালের শিক্ষক নিবন্ধন সনদ ভুয়া, সহকারী শিক্ষক (কৃষি) সালেহা খাতুনের ২০০৯ সালের নিবন্ধন সনদ জাল এবং সহকারী শিক্ষক (শারীরিক শিক্ষা) ইদ্রিস আলীর ২০১২ সালের নিবন্ধন সনদটি ভুয়া প্রমাণিত হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *