কালিগঞ্জ

কালিগঞ্জে তথ্য গোপনের অপরাধে প্যানেল চেয়ারম্যানকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা

স্টাফ রিপোর্টার: মিলন কসাই নামে এক ব্যক্তি রোগাক্রান্ত গরু জবাইয়ের মাংস লোপাট ও তথ্য গোপন করার অপরাধে প্যানেল চেয়ারম্যান ইউপি সদস্য নিজাম উদ্দিনের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাইনুল ইসলাম খান।

কালিগঞ্জ উপজেলার ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের পশ্চিম নারায়নপুর গ্রামের নুর আলী গাজীর বাড়িতে সোমবার (৬ এপ্রিল) বেলা ৩ টার দিকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় এ ঘটনায় ঘটে। এ বিষয়ে ঘটনার সত্যতা জানতে উপজেলার মহা দুর্নীতিবাজ প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ শংকর কুমার দের নিকট জানতে চাইলে তিনি পাল্টা প্রশ্নে গরু মরা কিনা সাংবাদিকের নিকট জানতে ও হুমকি দিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

পশ্চিম নারায়ণপুর গ্রামের প্রত্যক্ষদর্শী আরমান, আব্দুল আলিম, নজরুল ,আবুল কালাম সহ একাধিক গ্রামবাসী সাংবাদিকদের জানান, পশ্চিম নারায়নপুর গ্রামের পিয়ার আলী সরদারের ছেলে কসাই মিলন সরদার কালিগঞ্জ বাজারের দোকানে মাংস বিক্রি করে থাকে। বর্তমান বাজারে গরুর মাংসের দাম বেশি থাকায় মিলন কসাই বিভিন্ন অঞ্চল থেকে রোগাক্রান্ত মৃত্যুশয্যায় শায়িত গরু গুলো কম টাকায় কিনে রাতারাতি বাড়িতে জবাই করে ড্রামে, বস্তায় ,ভ্যানে ভরে দোকানে নিয়ে সদ্য জবাই করা গরুর মাংস বলে সাধারণ জনগণের নিকট বিক্রি করে আসছিল। সেই সূত্রে রবিবার রাতে তারালি থেকে একটি রোগাক্রান্ত গরু কিনে এনে রাতারাতি জবাই করে ফেলে। বিষয়টি স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক চাঁদাবাজরা সেখানে হাজির হয়ে পুলিশে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ৪০ হাজার টাকা আদায় করে ভাগ বাটোয়ারা করে নেয় বলে তারা সাংবাদিকদের জানান। ঐ সময় ওই স্থানে ভাড়াশিমলা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ইউ পি সদস্য নিজামুদ্দিন ও উপস্থিত হওয়ায় স্থানীয় জনগণ জানতে পারায় মাংস লোপাট করে দেয়। সকালে বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনগণ বিষয়টি প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার নিকট জানায়। খবর পাওয়ার ৬ ঘন্টা পর কালিগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ শংকর কুমার দে গাড়ি নিয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে কোন কিছু না পেয়ে উত্তেজিত জনতাকে আশ্বাস দিয়ে চলে আসে। ওই সময় বেলা আনুমানিক ২ টার দিকে কসাই মিলনসহ ওই গ্রুপটি প্যানেল চেয়ারম্যান ইউপি সদস্য নিজামুদ্দিনকে সাথে নিয়ে উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসে হাজির হলে সাংবাদিকরা জেনে যাওয়ায় মিশন ব্যর্থ হয়। ওই সময় অবস্থা বেগতিক দেখে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ শঙ্কর কুমার দে উপজেলা (ভারপ্রাপ্ত) নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাইনুল ইসলাম খানকে খবর দেয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেড ও উপজেলা (ভারপ্রাপ্ত) নির্বাহী কর্মকর্তা মইনুল ইসলাম খানের আদালতে তথ্য গোপন করে প্রশাসনকে না জানানোর অপরাধে প্যানেল চেয়ারম্যান নিজামুদ্দিনের নিকট থেকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। দীর্ঘদিন যাবত উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে রাতের আঁধারে প্রতিনিয়ত এই অবৈধ অনৈতিক, কার্যকলাপ চালিয়ে আসলেও বলার কেউ ছিল না।

উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ শংকর কুমার দের বিরুদ্ধে এর আগেও উপজেলার বিভিন্ন খামারিদের প্রশিক্ষণ কর্মশালার টাকা লুটপাট, আত্মসাতের খবর বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় ফলাও ভাবে প্রকাশিত হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *