শ্যামনগরে ‘জলবায়ু সংকট ও স্থানীয় অভিযোজন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলন
শ্যামনগর প্রতিনিধি: উপকূলীয় জনপদের জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উদ্ভাবনী উদ্যোগ ও অভিযোজন সংগ্রামকে সামনে আনার জন্য গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা বারসিক আয়োজন করছে ব্যতিক্রমধর্মী লোকালি লেড অভিযোজন মেলা। মেলা ৯ মার্চ সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত শ্রীফলকাটি ও ধুমঘাট সংলগ্ন পাইকের মোড় বিলে অনুষ্ঠিত হবে।
সোমবার শ্যামনগর উপজেলা অফিসার্স ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় কৃষক হাবিবুর রহমান মেলার বিস্তারিত তুলে ধরেন। উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষানী অল্পনা রানী মিস্ত্রি, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক নজরুল ইসলাম ও কৃষানী চম্পা রানী। বক্তারা জানান, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা, নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতার মতো সংকটের মুখোমুখি হয়ে স্থানীয় জনগোষ্ঠী টিকে থাকার নিজস্ব উদ্ভাবন ও অভিযোজন কৌশল তৈরি করেছেন। স্থানীয় কৃষি পদ্ধতি, লবণসহিষ্ণু ফসল, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও বিকল্প জীবিকার মাধ্যমে তারা অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন।
১২টি প্রদর্শনী স্টলে বাস্তবমুখী প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা মেলায় থাকছে ১২টি প্রদর্শনী স্টল, যেখানে উপকূলীয় মানুষের অভিযোজন কৌশল, ঐতিহ্যবাহী সরঞ্জাম, স্থানীয় বীজ, হস্তশিল্প, নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তি এবং সুন্দরবন সংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরা হবে। সাংস্কৃতিক আয়োজন ও নাগরিক সংলাপ সারাদিন জারি-সারি গান, স্থানীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, অভিনয়, চিত্রাঙ্কন ও দেয়ালিকা প্রদর্শনী চলবে। এছাড়া স্থানীয় জনগোষ্ঠী, জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী ও নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণে নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে। এতে উপকূলীয় অভিযোজনের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় ও সুপারিশ প্রণয়ন করা হবে।
নতুন দিগন্তের প্রত্যাশা আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেছেন, মেলা উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জ্ঞানভিত্তিক সমাধানকে জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্ব দেওয়ার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। স্থানীয় জনগণ, শিক্ষার্থী, যুবসমাজ, নারী সংগঠন ও গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, মেলার লক্ষ্য শুধুমাত্র প্রদর্শনী নয়- এটি উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবনসংগ্রাম, উদ্ভাবনী শক্তি ও জলবায়ু ন্যায়বিচারের দাবিকে জনমুখী করার একটি সামাজিক আন্দোলনের অংশ।

