সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ছুরিকাঘাতে নিহত এক, আটক-৪
স্টাফ রিপোর্টার: মুরগির খামার থেকে দুর্গন্ধ ছড়ানোর প্রতিবাদ করায় খামার মালিকের ছুরিকাঘাতে ইব্রাহীম হোসেন নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছে তার ভাই রুহুল আমিন।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারী) দুপুর দুটোর দিকে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার কেরালকাতা ইউনিয়নের সাতপোতা বেড়বাড়ি গ্রামে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করেছে।
নিহত ইব্রাহীম হোসেন (২৮) কলাররোয়া উপজেলার সাতপোতা বেড়বাড়ি গ্রামের সোলায়মান শেখের ছেলে।
আটককৃতরা হলেন, কলারোয়া উপজেলার সাতপোতা বেড়বাড়ি গ্রামের জামাল হোসেনের ছেলে আরিফুল ইসলাম, তার স্ত্রী সাথী আক্তার, বাবা জামাল হোসেন ও মা শাহানারা খাতুন।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রুহুল আমিন জানান, কেরালকাতা ইউনিয়নের বেড়বাড়ি গ্রামের আরিফুল ইসলাম পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়াই বসতবাড়ির উঠানে মুরগির খামার পরিচালনা করতেন। খামারের তীব্র দুর্গন্ধে শিশু-বৃদ্ধসহ আশপাশের মানুষ অতিষ্ঠ থাকলেও ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতেন না। কেউ প্রশ্ন তুললেই মারধর করা হতো।
এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার দুপুরা ২টার দিকে রমজান মাসে খামারের দুর্গন্ধ নিয়ে প্রতিবাদ করেন তার ভাই ইব্রাহিম হোসেন। এ নিয়ে আরিফুলের সাথে ইব্রাহীম ও তার পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আরিফুল ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো ছুরি ইব্রাহীমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে জখম করে। ভাইকে রক্ষায় তিনি (রুহুল আমিন) এগিয়ে গেলে তাকেও কুপিয়ে জখম করা হয়। প্রতিবেশীরা তাদেরকে উদ্ধার করে কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইব্রাহীমকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। রুহুল আমিনকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ব্যাপারে আটককৃত আরিফুল ইসলাম বলেন, তিনি ইব্রাহীমকে ছুরি দিয়ে আঘাত করলেও হত্যার জন্য করেননি। কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন হোসেন বলেন, এ ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
প্রসঙ্গত; নিহত ইব্রাহিম হোসেন এক সন্তানের জনক। বর্তমানে তার স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে স্ত্রীসহ তার স্বজনরা দিশেহারা।

