অনলাইনঅপরাধআইন আদালতআশাশুনিজীবনযাপনতালালিডসদরসাতক্ষীরা জেলা

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাতক্ষীরায় ক্রেতারদের নাভিশ্বাস: মোবাইল কোর্ট পরিচালনা

স্টাফ রিপোর্টার: রমজানের শুরুতেই নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে ক্রেতাদের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক উর্ধ্বগতিতে সাতক্ষীরার সাধারণ ক্রেতারদের নাভিশ্বাস উঠছে। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও পেঁয়াজ, রসুন, খেজুর, ডাল, মশলা ও সবজির দাম কেজিতে ৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বিশেষ করে খিরা, শসা, গাজর, লেবুর দাম কেজি প্রতি ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে।

সরেজমিনে সুলতানপুর বড় বাজারে গিয়ে দেখা যায়, পেঁয়াজের কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, নতুন রসুন ১০০ থেকে ১৫০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১৫০ থেকে ২০০ টাকা এবং ভালো মানের টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকায়। ব্রয়লার মুরগি কেজিতে ২০০-২২০ টাকা, দেশি মুরগি ৬২০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩৫০ টাকা, এবং ডিমের দাম আগের মতোই প্রতি ডজন ১১০ টাকা। বাজার পর্যবেক্ষকরা অভিযোগ করছেন, সরকারি সংস্থার তদারকির অভাবে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দাম নিয়ন্ত্রণ করছেন।

রমজানের পূর্বে চিনি, ডাল ও ছোলা আমদানির পরিমাণ গত বছরের তুলনায় যথেষ্ট বেড়েছে। কারসাজি রুখতে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হলেও বাজারে এর তেমন কোন কোন প্রভাব পড়ছে না।

রবিবার (২২ ফেব্রয়ারি) জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহেদ হোসেনের নেতৃত্বে কদমতলা বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানো হয় এবং মেসার্স আহাদ স্টোর ও ইসলাম স্টোরে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা ও বেশি দামে বিক্রির অভিযোগে মোট ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অপরদিকে, সাতক্ষীরা সদরের কাথন্ডা ও বাদামতলা বাজারে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নাভিল হোসেন তামীম ও সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে।

এ সময় দোকানে মূল্য তালিকা সংরক্ষণ না করা এবং নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে পণ্য বিক্রয়ের অভিযোগে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর বিভিন্ন ধারায় চারটি মামলায় জরিমানা আদায় করা হয়। অভিযানকালে ব্যবসায়ীদের সঠিকভাবে মূল্য তালিকা প্রদর্শন এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রয়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি ক্রেতা-বিক্রেতা ও সংশ্লিষ্ট সকলকে সচেতন করা হয়।

এদিকে একই দিনে আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা বাজারেও ফল ও মুদি দোকানে পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইনে অনিয়মের দায়ে জরিমানা করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রমজান মাসজুড়ে বাজার মনিটরিং কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে, যাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা যায়।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রিপন বিশ্বাস জানিয়েছেন, রমজান জুড়ে জেলার বিভিন্ন বাজারে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে তৎপর থাকবেন প্রশাসন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *