কালিগঞ্জশিক্ষাঙ্গনসাতক্ষীরা জেলা

কালিগঞ্জের একাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষক সংকটে ভিন্ন ধর্মের শিক্ষকের হাতে পাঠদান

তাপস কুমার ঘোষ, কালিগঞ্জ: কালিগঞ্জ উপজেলায় একাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় শিক্ষক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে হিন্দু ধর্মের শিক্ষক না থাকায় হিন্দু ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা ধর্মীয় শিক্ষার ক্ষেত্রে চরম বঞ্চনার শিকার হচ্ছে। বাধ্য হয়ে তাদের পাঠদান করানো হচ্ছে ভিন্ন ধর্মের শিক্ষকের মাধ্যমে, যা শিক্ষা ব্যবস্থার নৈতিকতা ও প্রচলিত বিধিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রবিবার (১১ জানুয়ারি) সরেজমিন অনুসন্ধানে উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একই ধরনের চিত্র দেখা যায়। এ সময় শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় এই সমস্যা নতুন নয়; বছরের পর বছর ধরে চলমান থাকলেও কার্যকর কোনো সমাধান নেওয়া হয়নি।এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে গিয়ে সরাসরি আলোচনা করা হলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দীপক কুমার বিশ্বাস বলেন, বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমেই প্রথম জানতে পেরেছি। অভিযোগ গুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।তিনি অভিযোগের বিষয়গুলো তাৎক্ষণিকভাবে ডায়েরিতে নোট করে নেন।

তবে প্রশ্ন উঠেছে দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাটি বিদ্যমান থাকলেও কেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষক সমিতি কিংবা প্রশাসনিক পর্যায় থেকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি?উজয়মারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রহমত আলী জানান, আমাদের বিদ্যালয়ে ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে হিন্দু ধর্মের কোনো শিক্ষক নেই। একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও আজ পর্যন্ত কোনো সদুত্তর কিংবা কার্যকর পদক্ষেপ পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে বিষ্ণুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি মৃন্ময়ী সরদার ও স্থানীয় রবিউল ইসলাম বলেন বিষ্ণুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মুসলিম ধর্মের শিক্ষক নেই।ফতেপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক অনুপম মন্ডল অভিযোগ করে বলেন, আমাদের এখানেও হিন্দু ধর্মের ক্লাস ও খাতা দেখেন ভিন্ন ধর্মের একজন ম্যাডাম।

স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, ধর্মীয় শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মানসিক ও নৈতিক বিকাশ মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগসহ স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়ে তারা বলেন, প্রয়োজনে শিক্ষক সমন্বয়ের মাধ্যমে হলেও সমস্যার অবসান ঘটানো হোক।

উপজেলা প্রশাসনের আশ্বাসের পরও বাস্তব পদক্ষেপ কত দ্রুত নেওয়া হবে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে এখনো সংশয় কাটেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *