অনলাইনঅপরাধআইন আদালতকালিগঞ্জশিক্ষাঙ্গনসাতক্ষীরা জেলা

কালিগঞ্জে শিক্ষকের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের অভিযোগ

তাপস কুমার ঘোষ, কালিগঞ্জ: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার উজায়মারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. মনিরুল আলমের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন, যৌতুক দাবি ও অনৈতিক আচরণের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ গুলো প্রকাশ্যে আসার পর শিক্ষকতার নৈতিকতা ও সামাজিক মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এলাকাজুড়ে।বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি ২০২৬) বেলা ১টার দিকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

একই দিন সাতক্ষীরার বিজ্ঞ আমলী আদালত (নং–০২)-এ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন অভিযুক্ত শিক্ষকের স্ত্রী মোছা. সিনা আক্তার (৩১)। মামলায় শিক্ষক মনিরুল আলম (৪০), তার ভাই খায়রুল ইসলাম (৪৫) ও ভাবি স্বপ্না খাতুন (৩৫)-সহ একাধিকজনকে আসামি করা হয়েছে।মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ইসলামী শরিয়ত ও দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকা দেনমোহরে সিনা আক্তারের সঙ্গে মনিরুল আলমের বিয়ে হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়ের সময় নগদ অর্থ, আসবাবপত্র, সেলাই মেশিন, ধান ঝাড়ার মেশিন, একটি গরু ও স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার যৌতুক আদায় করা হয়।এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, বিয়ের পর অতিরিক্ত ৩ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে অভিযুক্ত শিক্ষক তার ভাই ও ভাবির সহায়তায় স্ত্রীকে দীর্ঘদিন শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেন। একাধিকবার হত্যাচেষ্টার অভিযোগও মামলায় উল্লেখ রয়েছে।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, মনিরুল আলমের বিরুদ্ধে অতীতেও নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ ছিল। তবে প্রভাবশালী মহলের কারণে সেসব অভিযোগ আলোচনায় আসেনি। নতুন মামলার পর পুরনো অভিযোগগুলো নতুন করে সামনে আসায় এলাকায় ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।এছাড়া একজন শিক্ষক হয়েও দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকা, দায়িত্ব এড়িয়ে চলা এবং প্রশাসনিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এতে বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষক সমাজের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে মনে করছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রহমত আলী জানান, পারিবারিক কারণ দেখিয়ে মনিরুল আলম তিন দিনের ছুটি নেন এবং পরবর্তীতে ফোনে আরও ছুটি বাড়ানোর আবেদন করেন।অভিযুক্ত শিক্ষকের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দীপক কুমার বিশ্বাস বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *