অনলাইনঅপরাধআইন আদালতকালিগঞ্জসাতক্ষীরা জেলা

কালিগঞ্জের চম্পাফুলে সুনীল মণ্ডলের পরিবারের অবরুদ্ধ দশা থেকে মুক্তি মেলেনি

স্টাফ রিপোর্টার: কালিগঞ্জের সুনীল মণ্ডলের পরিবারকে অবরুদ্ধ দশা থেকে মুক্তি দিতে অতিরিক্তি জেলা প্রশাসকের (রাজস্ব) আদেশ পালনে গড়িমসি করা হয়েছে। কাঁটা তারের বেড়া ও ইটের প্রাচীর অপসারন না করে রাতের বেলায় কেবলমাত্র চারটি সিসি ক্যামেরা অপসারন করেই দায়িত্ব শেষ করেছে প্রশাসন। এতে উৎসাহিত হয়েছে জবরদখলের চেষ্টাকারিরা।

কালিগঞ্জ উপজেলার চম্পাফুল কালীবাড়ি বাজারের প্রয়াত সুনীল মণ্ডলের স্ত্রী মাধবী মণ্ডল জানান, তাদের প্রতিপক্ষ সামাদ গাজী ও তার ছেলে আলমগীর কবীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এর স্টাসকো আদেশ অমান্য করে গত ১১ ও ১২ ডিসেম্বর ৫০ জনেরও বেশি লাঠিয়াল ভাড়া করে সুনীল মণ্ডলের চার বিঘা জমির চারিধার কাটা তারের বেড়া, তুলসী মন্দির ও টিউবওয়েল বাইরে রেখে ঘরে ঢোকার দুই হাত করে বা রেখে ইটের প্রাচীর দিয়ে ওই পরিবারকে অবরুদ্ধ করে ফেলেন সামাদ গাজী ও আলমগীর কবীর।

শৌচাগারের পিছনের নারিকেল গাছসহ চারটি স্থানে লাগানো হয় সিসি ক্যামেরা। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নিতে বললেও পুলিশ ভূমিকা রাখেনি। অভিযোগ পেয়ে ১২ ডিসেম্বর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব এর নির্দেশে চম্পাফুল ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মুকিত হাসান জবরদখলকারি সামাদ গাজীকে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়ে আসেন।

পুলিশ সন্ধ্যায় সামাদ গাজীকে কাজ বন্ধ রাখার জন্য বলেন। ১৪ ডিসেম্বর কালিগঞ্জ সহকারি কমিশনার (ভ‚মি) মঈনুদ্দিন খান ঘটনাস্থলে এসে অমানবিক দৃশ্য দেখে দূঃখ প্রকাশ করলেও অবরুদ্ধ অবস্থা অপসারনে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত অবরুদ্ধ অবস্থা বহাল রাখার কথা বলে চলে যান। অবরুদ্ধ হয়ে পড়া সুনীল মণ্ডলের পরিবারের প্রাইভেসি নষ্ট করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরেজমিন প্রতিবেদন ২৭ ডিসেম্বর প্রথম আলোর অন লাইন, ২৮ ডিসেম্বর বিভিন্ন স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়।

একপর্যায়ে বুধবার আদালতের আদেশ অমান্য করে সুনীল মণ্ডলের পরিবারকে অবরুদ্ধ করার বিষয়টি জোরালোভাবে উপস্থাপন করা হয়। তাৎক্ষণিক বিচারক সুনীল মণ্ডলের পরিবারকে অবরুদ্ধ দশা থেকে মুক্তির জন্য নবনির্মিত প্রাচীর, কাাঁটা তারের বেড়া, ও প্রাইভেসি নষ্টকারি সকল সিসি ক্যামেরা অপসারণের জন্য মুঠোফোনে কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া আক্তারকে নির্দেশ দেন।

বুধবার বিকেলে চম্পাফুল ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মুকিত হাসান অবরুদ্ধ করার সামগ্রী সরিয়ে নিতে বললে আলমগীর কবীর বৃহষ্পতিবার সকালে সরিয়ে নেবেন বলে জানান। একপর্যায়ে বৃহষ্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত কোন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের আদেশ কার্যকর না হওয়ায় তিনি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেন। একপর্যায়ে রাত সাড়ে সাতটার দিকে মুক্তি হাসান ও পুলিশ ঘটনাস্থলে এলে আলমগীর কবীর লোক পাঠিয়ে ক্যামেরা খুলে নেন। তবে কাঁটা তারের বেড়া ও ইটের প্রাচীর অপসারন না করায় তিনি মুক্তি হাসানকে আদালতের আদেশ সম্পর্কে অবহিত করেন। তখন মুকিত হাসান বলেন, রাজস্ব স্যারের লিখিত আদেশ না পেলে তিনি কিছু করতে পারবেন না। বিষয়টি তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হলে তিনি সামগ্রিক বিষয় নিয়ে আবারো উদ্যোগ নেবেন।

চম্পাফুল ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মুকিত হাসান বলেন, লিখিত আদেশ না থাকলে অনেক কিছু করা যায় না। তবে লিখিত আদেশ ছাড়া কিভাবে সিসি ক্যামেরা অপসারন করলেন তা এড়িয়ে যেয়ে বলেন, রাতে কাজ করা মুশকিল। তাই বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া আক্তার বলেন, ভূমি কর্মকর্তা মুকিত হাসানের কাছে বিস্তারিত জেনে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *