কালিগঞ্জে টানা ৪র্থ বার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক গাজী মিজানুর রহমান, শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বড়শিমলা
মাসুদ পারভেজ, কালিগঞ্জ: জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ–২০২৬ উপলক্ষে কালিগঞ্জ উপজেলায় টানা চতুর্থবারের মতো শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বড়শিমলা কারবালা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গাজী মিজানুর রহমান। একই সঙ্গে বিভিন্ন ক্যাটাগরির শর্ত পূরণ করে উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে বড়শিমলা কারবালা মাধ্যমিক বিদ্যালয়। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় এই গৌরব অর্জন করেন তিনি। এর আগে তিনি ২০২২, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে কালিগঞ্জ উপজেলা এবং সাতক্ষীরা জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন।
গাজী মিজানুর রহমান বর্তমানে কালিগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি, বাংলাদেশ স্কাউট কালিগঞ্জ উপজেলার সম্পাদক এবং সদ্য নবনির্বাচিত সাতক্ষীরা জেলা শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত। তিনি ২০১৯ সালে বাংলাদেশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নিউজিল্যান্ডে বিজ্ঞান বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি একজন সাহিত্যিক, কবি, লেখক ও সাংবাদিক হিসেবেও পরিচিত। উল্লেখ্য, গাজী মিজানুর রহমান উকশা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে টানা ১৪ বছর সততা, দক্ষতা ও যোগ্যতার সঙ্গে শিক্ষকতা করার পর ২০১৭ সালে বড়শিমলা কারবালা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। তাঁর নেতৃত্বে বিদ্যালয়টি ধীরে ধীরে একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপ লাভ করে।
বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে রয়েছে আধুনিক অডিটোরিয়াম, স্থায়ী মঞ্চ, সাইকেল গ্যারেজ, সুসজ্জিত পতাকা স্ট্যান্ড, ফুলবাগান, স্মার্ট লাইব্রেরি, স্মার্ট বিজ্ঞানাগার, আইসিটি ডিজিটাল ল্যাব, ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব, বিজ্ঞান ক্লাব, সাংস্কৃতিক বিভাগ, শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক ওয়াশ ব্লক, শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের জন্য আলাদা ওয়াশরুম, ছাত্র-ছাত্রী কমন রুম, ই-সার্ভিস কর্নার, বিশাল ফুটবল মাঠ, সীমানা প্রাচীর ও দৃষ্টিনন্দন প্রধান গেট। পুরো ক্যাম্পাস ও প্রতিটি শ্রেণিকক্ষ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতাভুক্ত।
২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় এই বিদ্যালয় থেকে একজন শিক্ষার্থী বোর্ড বৃত্তি অর্জন করে। পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক, বিতর্ক ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিদ্যালয়টি বিভিন্ন সময়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। গাজী মিজানুর রহমান বলেন, “বিদ্যালয়ের একঝাঁক তরুণ শিক্ষক শিক্ষিকার দক্ষতা, সততা ও নিরলস পরিশ্রমের ফলে আজ প্রতিষ্ঠানটি ধাপে ধাপে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ সফলতার জন্য এলাকার সুধীজন, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও প্রশাসনের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন।
