সাতক্ষীরা সীমান্ত থেকে বিজিবির অভিযানে সাড়ে ৫ লক্ষাধিক টাকার চোরাচালানী মালামাল জব্দ
স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরা ও কলারোয়া সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে প্রায় সাড়ে পাঁচ লক্ষ টাকা মূল্যের চোরাচালানী মালামাল জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
বুধবার (০৭ জানুয়ারি) সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি)-এর অধীনস্থ তলুইগাছা, কাকডাঙ্গা, মাদরা ও চান্দুরিয়া বিওপি এবং বাঁকাল চেকপোষ্টের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ০২ বোতল ভারতীয় মদসহ বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ঔষধ ও শাড়ি জব্দ করা হয়।
তলুইগাছা বিওপির বিশেষ আভিযানিক দল মেইন পিলার ১২/৬ এস হতে আনুমানিক ৩০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সাতক্ষীরা সদর থানাধীন কামারবাড়ি নামক স্থান থেকে ২ লাখ ৩২ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের ভারতীয় ঔষধ আটক করে। মাদরা বিওপির বিশেষ আভিযানিক দল মেইন পিলার ১৩/৩ এস-এর ১১ আরবি হতে আনুমানিক ৩০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কলারোয়া থানাধীন চান্দা মাঠ এলাকা থেকে ৩৮ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের ভারতীয় শাড়ি জব্দ করে। কাকডাঙ্গা বিওপির বিশেষ আভিযানিক দল মেইন পিলার ১৩/৩ এস-এর ০৫ আরবি হতে আনুমানিক ৩০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কলারোয়া থানাধীন গেরাখালি নামক স্থান থেকে ৫২ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের ভারতীয় শাড়ি আটক করে। চান্দুরিয়া বিওপির বিশেষ আভিযানিক দল মেইন পিলার ১৭/৭ এস-এর ১০ আরবি হতে আনুমানিক ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কলারোয়া থানাধীন কাদপুর নামক স্থান থেকে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় ঔষধ জব্দ করে।
এছাড়া, বাঁকাল চেকপোষ্টে দায়িত্বরত বিশেষ আভিযানিক দল একটি মাহিন্দ্রা গাড়ি তল্লাশি করে ৩ হাজার টাকা মূল্যের ০২ বোতল ভারতীয় মদ আটক করে।
অভিযানে সর্বমোট ৫ লাখ ৩৬ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের চোরাচালানী মালামাল জব্দ করা হয়। তবে অভিযানের সময় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, জব্দকৃত মালামাল শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভারত থেকে বাংলাদেশে পাচার করা হচ্ছিল। এ ধরনের চোরাচালানের ফলে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সরকার বিপুল রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, বিজিবি কর্তৃক উদ্ধারকৃত মালামাল সাতক্ষীরা কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। দেশের রাজস্ব সুরক্ষা, স্থানীয় শিল্পের বিকাশ এবং তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহ আগ্রাসন থেকে রক্ষার লক্ষ্যে বিজিবির এ ধরনের মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

