অনলাইনঅপরাধআইন আদালতযশোরশার্শাসারাবাংলাস্বাস্থ্য

শার্শায় ভেজাল গুড়ের কারখানা বন্ধ করলো ভ্রাম্যমাণ আদালত

স্টাফ রিপোর্টার: শার্শায় ভেজাল গুড়ের কারখানা বন্ধ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার (৭ জানুয়ারি) বেলা ১২টার দিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত এই অভিযান পরিচালনা করেন।

যশোরের শার্শা উপজেলাধীন বাগআঁচড়া গ্রামের ঘোষপাড়ায় ২টি ভেজাল গুড়ের কারখানায় অভিযান চালিয়ে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা, মালামাল নষ্ট ও কারখানা দুইটি বন্ধ করে দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনাব নিয়াজ মাকদুম (শার্শা উপজেলা সহকারী কমিশনার, ভূমি) মহোদয়ের নেতৃত্বে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর (যশোর) এই অভিযান পরিচালনা করেন। উক্ত অভিযানে উপস্থিত ছিলেন- যশোর জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা আব্দুর রহমান, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক জনাব মোঃ সেলিমুজ্জামান, শার্শা উপজেলা স্যানিটারি অফিসার সেফালি খাতুন, শার্শা থানা পুলিশের একটি দল সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।

কারখানা ২টিতে দীর্ঘদিন ধরে ভেজাল গুড় তৈরি করে আসছিল কারখানা মালিক সহদর দুই ভাই আলী আহম্মেদ ও মশিয়ার রহমান। কারখানা ২টিতে টয়লেটের পানি দিয়ে নোংরা পরিবেশে আখ এবং খেজুরের রস ছাড়াই নিম্নমানের গুড়, চিনি, ফিটকিরি, হাইডোস, রং সহ বিভিন্ন অপদ্রব্য মিশিয়ে ভেজাল গুড় তৈরি করা হইতো। বাগআঁচড়া বাজারের গুড়পট্টিতে উক্ত ২ জন কারখানা মালিকের ২টি গুড়ের দোকান আছে। তারা সেখানে এই ভেজাল গুড় বিক্রি এবং বিভিন্ন জায়গার অসৎ ব্যবসায়ীদের কাছে সরবরাহ করে আসছিল দীর্ঘদিন যাবত। মানব স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এবং মারাত্মক ক্ষতিকর জেনেও তারা অধিক মুনাফার লোভে মুলত এই অপকর্ম চালিয়ে আসছিল। প্রশাসনের অভিযানে আজ ভেজাল কারখানা ২টি বন্ধ করা হলো।

বাগআঁচড়া বাজারে সততা মোবাইল ষ্টোর নামে একটি দোকানে এলপিজি গ্যাসের মুল্য তালিকা না থাকার দায়ে ২ হাজার টাকা জরিমানা করেন উক্ত ভ্রাম্যমাণ আাদালত।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাধারণ জনগণ প্রতিটি এলপিজি গ্যাসের দোকান, খাবারের দোকান ও গুড়ের বাজারে নিয়মিত এধরণের অভিযান পরিচালনার দাবী জানান।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনাব নিয়াজ মাকদুম জানান, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে যশোরের ঐতিহ্যবাহী খেজুরের গুড়ের নামে নকল খেজুরের গুড় ও আখের গুড় তৈরি করে বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে কারখানা ২টি বন্ধ করে দেওয়া হলো। জনস্বার্থে এধরণের ভেজাল বিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *