অনলাইনঅপরাধআইন আদালতসদরসাতক্ষীরা জেলা

সাতক্ষীরায় সাংবাদিকের নামে মিথ্যা মামলা দিলেন ফরিদা ও তার মাদকাসক্ত পুত্র কাউসার

স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরা শহরের কাটিয়া রেজিস্ট্রি অফিসপাড়া এলাকায় চুরির একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে ভিন্নভাবে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই মামলায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থেকেও স্থানীয় এক সাংবাদিক ও তাঁর ভাইকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক মহল ও এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সাতক্ষীরা সদর থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়। মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন দৈনিক দক্ষিণের মশাল-এর বার্তা সম্পাদক সাংবাদিক আব্দুর রহমান, তাঁর বড় ভাই রফিকুল ইসলামসহ স্থানীয় আরও তিনজন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০ ডিসেম্বর ভোরে কাটিয়া অফিসপাড়া এলাকার বাসিন্দা কওছার আলী রফিকুল ইসলামের বসতবাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে কচু ও কলা চুরির চেষ্টা করেন। এ সময় রফিকুল ইসলামের স্ত্রী নূর জাহান বিষয়টি টের পেয়ে কারণ জানতে চাইলে কওছার আলী ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে ধাক্কা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনাটি দেখে স্থানীয় লোকজন কওছার আলীকে চুরির মালামালসহ আটক করে জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯–এ ফোন দেন। তবে পুলিশের উপস্থিতির আগেই তিনি কৌশলে পালিয়ে যান। পরে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন।

অভিযোগ রয়েছে, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও তা আমলে না নিয়ে চুরির ঘটনাকে মারপিট হিসেবে দেখিয়ে মামলা রেকর্ড করা হয়। ওই মামলায় চার ও পাঁচ নম্বর আসামি হিসেবে সাংবাদিক আব্দুর রহমান ও তাঁর ভাই রফিকুল ইসলামকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় তাঁরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না; চুরির ঘটনার খবর পেয়ে পরে সেখানে যান।

এলাকাবাসীর দাবি, প্রকৃত অভিযুক্ত কওছার আলীর বিরুদ্ধে মামলা না নিয়ে তাঁর মা ফরিদা বেগমকে বাদী করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। যথাযথ তদন্ত ছাড়াই এভাবে মামলা নেওয়ায় প্রকৃত ঘটনা আড়াল হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।

কাটিয়া এলাকার বাসিন্দা বিপ্লব হোসেন বলেন, কওছার আলীর বিরুদ্ধে এলাকায় একাধিক চুরির অভিযোগ রয়েছে। তাঁর আচরণে আমরা দীর্ঘদিন ধরে অতিষ্ঠ।

এ বিষয়ে কাটিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পিংকু মণ্ডল বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি ঘটনাস্থলে যান এবং সেখানে এক নারী আহত অবস্থায় ছিলেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে মামলা গ্রহণ করা হয়। তিনি ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদুর রহমান বলেন, তিনি মিটিংয়ে আছেন। পরে এ বিষয়ে কথা বলবেন।

এদিকে, যথাযথ তদন্ত ছাড়াই একজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা নেওয়ার ঘটনায় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাঁরা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *