শ্যামনগরে খোলপেটুয়া নদী থেকে চিত্রা হরিণ উদ্ধার
শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগরের গাবুরা ইউনিয়নে খোলপেটুয়া নদী থেকে একটি চিত্রা হরিণ উদ্ধার করেছে স্থানীয় বাসিন্দারা। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকালে নদী পার হওয়ার সময় স্রোতের টানে ভাসতে থাকা হরিণটিকে উদ্ধার করে পরবর্তীতে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে খোলপেটুয়া নদীতে মাছ ধরার সময় জেলেরা একটি হরিণকে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান। বিষয়টি জানাজানি হলে গাবুরা ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. সাইফুল ইসলামসহ স্থানীয় একদল যুবক নৌকা নিয়ে নদীতে নেমে পড়েন। বেশ কিছুক্ষণের প্রচেষ্টায় হরিণটিকে জীবিত ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসেন তারা।
হরিণ উদ্ধারের খবর পাওয়ার পর পরই সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের বন বিভাগের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা হরিণটিকে উদ্ধার করে বন বিভাগের হেফাজতে নিয়ে যান।
বন কর্মকর্তাদের মতে, সুন্দরবনে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি, তীব্র স্রোত অথবা অনেক সময় খাদ্যের সন্ধানে হরিণ বা বাঘের মতো বন্যপ্রাণী নদী পার হয়ে লোকালয়ের কাছাকাছি চলে আসে। তবে গাবুরার বাসিন্দাদের এই সচেতনতা এবং বন্যপ্রাণীর প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
এক সময় লোকালয়ে বন্যপ্রাণী এলে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বা শিকারের প্রবণতা থাকলেও, বর্তমানে বন বিভাগ ও বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রচারণায় জনসচেতনতা বেড়েছে। যে কারণে হরিণটি অক্ষত অবস্থায় উদ্ধারের পর বন বিভাগ সহজে সেটিকে নিজেদের হেফাজতে নিতে পেরেছে।
বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, দিকভ্রান্ত হয়ে হরিণটি লোকালয়ের দিকে চলে আসলে স্থানীয়রা বিষয়টি বনবিভাগকে জানায়। পরে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বনকর্মীরা নিরাপদে হরিণটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারকৃত হরিণটি সুস্থ থাকায় প্রাথমিক চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ শেষে সুন্দরবনের কলাগাছিয়া এলাকায় পুনরায় অবমুক্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বুড়িগোয়ালিনী স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী রক্ষায় নিয়মিত টহল ও নজরদারি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। লোকালয়ে বন্যপ্রাণী চলে এলে স্থানীয়দের আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত বনবিভাগকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।

