অনলাইনঅপরাধআইন আদালততালাসদরসাতক্ষীরা জেলা

সাতক্ষীরার পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা, ৮ জনের নামে মামলা

স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরায় নদী খননের মাটি লুটপাটে বাঁধা দেওয়ায় স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালিয়ে দুই পুলিশ সদস্যকে আহত করা হয়েছে। এসময় ফাঁড়িতে আটকে রাখা বেতনা নদীর খননকৃত মাটি লুটপাটকারী ট্রলি চালকদের সরদারকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সকালে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ফাঁড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

আহত পুলিশ সদস্যদের সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন, ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ফাঁড়ির সহকারি উপপরিদর্শক মাহাবুর রহমান ও কনস্টেবল মেহেদী হাসান।

ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ফাঁড়ির কর্তব্যরত উপপরিদর্শক সোহরাব হোসেন জানান, বেতনা নদীর খননকৃত মাটি নেহালপুর ও পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে দীর্ঘদিন ধরে লুটপাট করে আসছিলো একটি মহল। এ চক্রের সর্দার ছিলো ধুলিহর সানাপাড়ার মৃত ইমান আলীর ছেলে ট্রলি চালক কিসমত আলী।

সম্প্রতি পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে সাতক্ষীরা শহরের এক ঠিকাদার নেহালপুর এলাকার বেতনা নদীর খননকৃত মাটি কিনেছেন মর্মে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত তাকে মঙ্গলবার অবহিত করেন। একইসাথে ওই মাটি যাতে কেউ লুটপাট না করে তা দেখার জন্য তাকে নির্দেশনা দেন। তাৎক্ষণিক তিনি মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) ট্রলি চালকদের সর্দার ধুলিহর সানাপাড়ার কিসমত আলীসহ সকলকে অবহিত করেন।

সোহরাব হোসেন আরো জানান, বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) ভোরে কিসমত আলীর নেতৃত্বে ৭/৮ জন নেহালপুর স্লুইস গেটের পাশে বেতনা খননের স্তুপকৃত মাটি কেটে ট্রলীতে ভরে অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছে মর্মে তিনি খবর পান। বিষয়টি তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের জানান। একপর্যায়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যসহকারি রাজকুমার মন্ডল সকালে ঘটনাস্থলে এসে তাদেরকে মাটি কাটতে বাধা দেন। তার উপর চড়াও হয় কিসমত ও তার সহযোগীরা। একপর্যায়ে সকাল ১০টার দিকে তিনি ট্রলিভর্তি মাটিসহ কিসমতকে ধরে ফাঁড়িতে নিয়ে আসেন। পরবর্তিতে ফাঁড়িতে আটকে রেখে ট্রলি চালকদের মারপিট করা হয়েছে এমন খবর ছড়িয়ে দিলে কিসমতের ভাই রহমত, স্ত্রী শাহানারা ও ভাইপো বাবুরালীসহ ৩০/৩৫ জন ফাঁড়ির ফটক জোরপূর্বক খুলে ফেলে। তারা কিসমতকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে সহকারি উপপরিদর্শক মাহাবুর রহমান ও সিপাহী মেহেদী হাসান বাধা দেন। হামলাকারিরা ওই দুই পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে জখম করে আটককৃত ট্রলিসহ কিসমতকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে স্থানীয় সাহেব আলী, নূর হোসেনসহ কয়েকজন জানান, বিগত আওয়ামী লীগের আমলে বেতনা নদীর খননকৃত মাটি কিসমতের নেতৃত্বে লুটপাট করা হতো। কিসমতের পিছনে থাকা রাঘব বোয়ালরা নেপথ্যে থেকে পুলিশ ফাঁড়িতে হামলার মদদ দিয়েছে।

এ ব্যাপারে কিসমত হোসেন দাবি করে বলেন, পুলিশের নিষেধ অমান্য করে তিনি বুধবার সকালে বেতনার মাটি কাটছিলেন এটা সত্য। কিন্তু তাকে ধরে আনার পর আর কখনো মাটি কাটবেন না বলার পরও ফাঁড়ির কর্মকর্তা উপপরিদর্শক সোহরাব হোসেন তাকে মারপিট করেছে।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মাসুদুর রহমান জানান, ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ফাঁড়িতে হামলার ঘটনায় কিসমতসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ২০/৩০ জনের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারি প্রকৌশলী লিয়াকত হোসেন বুধবার বিকেলে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *