অনলাইনইতিহাস ঐতিহ্যসদরসাতক্ষীরা জেলা

সাতক্ষীরায় জাতীয় গণহত্যা দিবস পালিত

স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ সংলগ্ন বধ্যভূমিতে ২৫ মার্চের শহিদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহমেদের নেতৃত্বে সরকারি কর্মকর্তা ও মুক্তিযোদ্ধারা বধ্যভূমিতে শহীদদের স্মরণে পুস্তবক অর্পণ করেন। পরে সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহমেদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রমাসক (সার্বিক) বিষ্ণুপদ পাল, এনডিসি প্রণয় মিত্র, জেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মশিউর রহমান মশু প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাক হানাদার বাহিনী ঢাকাসহ সারা দেশে অপারেশন সার্চ লাইট নামে এক অঘোষিত হত্যাযজ্ঞা শুরু করে। পরবর্তীতে ২১ এপ্রিল সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে আশ্রয় নেওয়া চার শতাধিক মানুষকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে পাক বাহিনী। পরে তাদেরকে স্কুলের পাশেই দীনেশ কর্মকারের ডোবায় গণকবর দেওয়া হয়।

এদিকে গণহত্যা দিবস উপলক্ষে ’৭১ এর বদ্ধভূমি স্মৃতি সংরক্ষণ কমিটি মঙ্গলবার বিকেলে সাতক্ষীরার শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কের শহীদ মিনার পাদদেশে এক আলেচনা সভার আয়োজন করে। সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল হামিদের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন জাসদ নেতা অধ্যক্ষ আশেক ই এলাহী, সাংবাদিক কল্যাণ ব্যাণার্জী, কলেজ শিক্ষক ও বাসদ নেতা নিত্যানন্দ সরকার, বাসদ নেতা অ্যাড. খগেন্দ্রনাথ ঘোষ, মানবাধিকার কর্মী রঘুনাথ খাঁ, জাসদ নেতা পফেসর ইদ্রিস আলী, গণফোরাম নেতা আলী নূর খান বাবুল, সিপিবি নেতা আবুল হোসেন, উদীচির জেলা শাখার সভাপতি ছিদ্দিকুর রহমান, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মুনসুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর জব্বার, ফজলুর রহমান প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সমুন্নত রাখতে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তিতে এক সাথে লড়তে হবে। সাতক্ষীরার কাটিয়া আমতলায় দীণেশ কর্মকারের বাড়িতে থাকা গণকবরসহ জেলার সকল গণকবর চিহ্নিত করে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *